অস্ত্র নিয়ে কাউন্সিলরের নাচানাচির ভিডিও ভাইরাল


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২১ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:::কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলের বিরুদ্ধে মহানগর যুবলীগ নেতা রোকন উদ্দিন রুকনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর জলিল নগরীর চকবাজারের তেলিকোনা চৌমুহনী এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে দুই হাতে দুটি রামদা (দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে নাচানাচি করেন। তার এই নাচের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে, অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

সাইফুলকে পুলিশ শনিবার (২০ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এদিকে যুবলীগ নেতা রুকনকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। রুকন কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

সূত্র মতে, গত সিটি নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে সাইফুল ও যুবলীগ নেতা রুকন কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হন রুকন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রুকন মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় চকবাজার এলাকায় কাউন্সিলর সাইফুল তাকে গাড়িচাপা দেন বলে অভিযোগ করেন রুকন। এতে রুকনের পা ভেঙে যায়। এরপর একটি পেট্রোল পাম্পে দুই হাতে দুটি রামদা নিয়ে নাচানাচি করেন কাউন্সিলর সাইফুল।

৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার সঙ্গে রামদা নিয়ে দুটি শিশুও নাচানাচি করছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকবাজারের কাশারীপট্টি এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তখন তার হাতে একটি রামদা ছিলো। এ সময় সাইফুল অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান। স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই ধস্তাধস্তি ভিডিও ধারণ করেন। পরে যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা কাউন্সিলর জলিলকে আটক করতে গেলে, তিনি ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে বাগে আনতে পুলিশ তার ওপর চড়াও হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাইফুল।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক জানান, আহত রুকন বাদী হয়ে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।