সম্পাদকীয়

আইডি কার্ড থাকলেই কি ‘সাংবাদিক’ হওয়া যায় ?

সাংবাদিকতা

একটি মহান পেশা ,বর্তমান সময়ের ফেসবুকে মূর্খ আর অশিক্ষিত মানুষদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন- এমন স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়।প্রশ্ন হচ্ছে কুলি, দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ মূর্খ আর অশিক্ষিত মানুষদের সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পেছনে একটুও কি আমাদের সিনিয়র ও শিক্ষিত সাংবাদিকদের ওপর বর্তায় না?এটি হচ্ছে আমাদের দক্ষ ও শিক্ষিত সাংবাদিকদের অদক্ষতার ফসল।একজন সাংবাদিক আরেকজনকে সবসময় ঘায়েল করার পায়তারা করতে কুলি, দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ দলে টেনে দল ভারী করে। আর এদরে দলে টেনে তাদের শিষ্য বানিয়ে নিজেকে গুরু হিসেবে জাহির করে এবং দল-বল নিয়ে ভেড়া-ছাগলের পাল সাজিয়ে ধান্দাবাজিতে যাওয়াসহ সিনিয়রদের নানা অদক্ষতার কারণে মূর্খরা এ পেশায় দিন দিন সংখ্যাগুরু হচ্ছে।তাছারা এর পিছনে আরও বহু কারণ রয়েছে।কথাগুলোর প্রমাণ চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ে। সব মূর্খদের সাংবাদিকতা পেশায় আসার পেছনে কোন না কোন সিনিয়র বা দক্ষ ও শিক্ষিত সাংবাদিকেরই অবদান বেশি। এতওে থেমে থাকে নি বিভিন্ন ভুইফোড় সাংবাদিকরা |

একটা আইডি কার্ড থাকলেই কি ‘সাংবাদিক’ হওয়া যায়? সাংবাদিকতা করতে কি কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই?

বিভন্ন পর্যায়ের দালার চক্র ও মূর্খদের সাংবাদিকতায় আসার পেছনে শুধু সিনিয়র সাংবাদিকদেরই আমি দায়ি করবো না, কারন এখানে আমাদের দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার মালিক কর্তৃপক্ষও কম দায়ি নয়।

ইদানিং অনেক ইলেক্টনিক মিডিয়ার কিছু টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির টিভি চ্যানেলগুলো যেখানে এক জেলায় ১ জন ‘জেলা প্রতিনিধি’হিসাবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এবং চ্যানেল এর পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব বেতন ভাতা ও সম্মানি প্রদান করেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যঙ্গের ছাতার মতো কিছু ভুঁইফোড় ‘টিভি চ্যানেল’ প্রতিটি জেলায় দুই থেকে চারজনও প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে। সাথে উপজেলা প্রতিনিধি তো আছেই।

তারা ইতোমধ্যেই জেলা প্রতিনিধি (উত্তর), জেলা প্রতিনিধি (দক্ষিণ) ও জেলা সদর প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে আসছেন।
হয়তো আগামীতে তারা জেলা প্রতিনিধি (পশ্চিম), জেলা প্রতিনিধি (পূর্ব), জেলা প্রতিনিধি (উত্তর কোণ), জেলা প্রতিনিধি (দক্ষিণ কোণ), জেলা প্রতিনিধি (পশ্চিম কোণ), জেলা প্রতিনিধি (পূর্ব কোণ), জেলা প্রতিনিধি (স্পেশাল), জেলা প্রতিনিধি (স্টাফ), জেলা প্রতিনিধি (ক্রাইম), জেলা প্রতিনিধি (ব্যুারো) সহ আরো কত যে পদে নিয়োগ দেবেন তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

এই যে বিভিন্ন পদে তারা জেলা-উপজেলায় নিয়োগ দিচ্ছেন তাদের কি শুধু শুধুই নিয়োগ দিচ্ছেন? তবে আমি নিশ্চিত তারা কিন্তু বিনে পয়সায় নিয়োগকর্ম চালায় না। নিয়োগ দিয়ে শুধু একটাই উপদেশ তারা দেন – ‘নাও আর যাও। বাবা, কামাই করে খাও’।

এসকল নিয়োগ বাণিজ্য হয়তো মফস্বলের সিনিয়র সাংবাদিকদের থামানোর ক্ষমতা নাও থাকতে পারে। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে তাদের করণীয় কি?

আমি মনে করি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলার সকল সিনিয়র সাংবাদিকদেরই এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সকল সংগঠনকে এক হয়ে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
না হলে হয়তো মফস্বল সাংবাদিকতাও কুলি, দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ মূর্খ আর অশিক্ষিত মানুষদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button