আগামীকাল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা অলোক মজুমদার


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ মার্চ, ২০২১

চিতলমারী(বাগেরহাট) প্রতিনিধি::::রবীন্দ্রনাথের সুরে হোলির রং আমাদের মর্মে লাগুক—
ওহে গৃহবাসী খোল,দ্বার খোল,লাগলে যে দোল,
জলে স্থলে বনতলে লাগলো যে দোল।দ্বার খোল,দ্বার খোল-
দোল হিন্দু সভ্যতার প্রাচীন উৎসব।নারদ পুরাণ,ভবিষ্য পুরাণ দোল উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৭ম শতাব্দীর এক শিলা লিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়।হর্ষবর্ধনের নাটক” রত্নাবলী”ও আলবিরুনীর বিবরনে জানা যায় মধ্য যুগে কোন কোন অঞ্চলে মুসলমানরাও হোলিকোৎসবে যুক্ত হতো।
শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন থেকে দোল কথার উদ্ভব। রাধা কৃষ্ণের তত্ত্বকে দাঁড় করিয়ে বিপরীত লিঙ্গের মাঝে অবাধ হোলি খেলা হয়।বাঙ্গালী তথা হিন্দু সমাজের অন্যতম মহাপুরুষ শ্রী চৈতন্যদেবের জন্ম তিথি এই ফাল্গুনী পূর্নিমা তিথি তথা দোল তিথি।
বাংলা অঞ্চলে বৈষ্ণব প্রাধান্য রীতি প্রচলিত রং উৎসবের আগের দিন “হোলিকাদহন” হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে।গাছের শুকনা ডাল,দাহ্য বস্তুকে সুউচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সঙযোগ করার পর দিন হয় রং খেলা।
হিন্দুধর্ম ঐতিহ্য,সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও উৎসবের আনন্দে মানবতার বানীকে ধারণ করে যুগ যুগ ধরে।বারো মাসে তের পার্বনের ন্যায় হিন্দুধর্মে লেগে আছে ঋতু ভিত্তিক উৎসব।এই সব উৎসব ধর্মীয় গন্ডি ভেদ করে সর্বমানবীয়।প্রাচীন ঋষিরা হিন্দু ধর্মকে ক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ করেনি।অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত।হোলি তেমন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির উত্থানের ইতিহাস। দোলযাত্রাকে শান্তি নিকেতনে বসন্তোৎসব নামে পরিচিত।
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী ফাল্গুনী পূর্নিমা বা দোল পূর্নিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রী কৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন।সেই ঘটনা থেকে দোল খেলার উৎপত্তি। দোলযাত্রার দিন সকালে রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহে আবির ও গুলালে স্নাত করিযে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। তারপর ভক্তরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রঙ খেলার মেতে ওঠে।
দোলের সাথে জড়িয়ে আছে রাধা কৃষ্ণের অমর প্রেম কাহিনী।একবার রাধা বৃন্দাবনে সখিদের সাথে নিয়ে খেলা করার সময় অঙ্গ থেকে বস্ত্র খুলে যায়। রাধা বিড়ম্বনায় পড়ে যায়। বিড়ম্বনার হাত থেকে রাধাকে বাঁচাতে শ্রী কৃষ্ণ রাধা ও তার সখীদের রং খেলায় মেতে ওঠে।রাধার অনাবৃত অংশে রাঙিয়ে দেয় আবির দিয়ে।তারপর থেকে ব্রজধামে শুরু হয় রং খেলা।
পৃথিবীতে যখন পাপে পরিপূর্ন হয় ঈশ্বর সেই ভার লাঘব করেন অবতার রুপে।ধর্মীয় গন্ডি ছড়িয়ে হোলি উৎসবের এই মহান আদর্শ আমাদের পাপ পঙ্কিল ধরনীকে পরশ পাথরের ন্যায় সত্য করে তোলে।অন্যায়কে পরাজিত করার আনন্দে সকলের মন রাঙিয়ে উঠুক এই হোলিতে।
বাংলা ১৪ চৈত্র,ইংরেজি ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে শ্রী কৃষ্ণের দোলযাত্রা।এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী।