ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধির আহ্বান সৌদির


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২০ আগস্ট, ২০২০

বিদেশ : মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদেশ’ ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। দেশটির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে যাওয়ার পর এমন আহ্বান জানালো সৌদি। খবর সৌদি গেজেট ও রয়টার্সের। লোহিত সাগরের তীরে সৌদি আরবের পর্যটনকেন্দ্র নিওমে অবসব কাটাচ্ছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। সেখান থেকেই মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। বৈঠকে বলা হয়, ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে দেশটি আর ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে।মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধসংঘাত উস্কে দেবে। তাই সৌদি আরব এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে, যাতে ইরানকে এ অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখা যায়। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা আগামী অক্টোবরে উঠে যাওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ২০১৫ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল ইরানের। চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার শর্তে দেশটিকে পারমাণবিক জ¦ালানি প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। সে সময় জাতিসংঘও দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে করা ওই চুক্তিকে ‘অসম্পূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে যায় দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। একইসঙ্গে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে উঠে পড়ে লাগেন ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট হয়। ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পাস হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৯ ভোটের প্রয়োজন ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১১ সদস্য প্রস্তাবটি এড়িয়ে যায়, ভোটদানে বিরত থাকে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডমিনিকান রিপাবলিক প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। এভাবেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থনের অভাবে প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র।