কালাতিয়া ইউনিয়নের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২১ মার্চ, ২০২১

সোহেল মিয়া, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি::: দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, জীবন হয়েছে অনেক সহজ ও সুন্দর। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে।এমনই এক ব্যতিক্রমী জনপদের নাম চর আকসাইল, মিঠাপুর, মধুর চর এলাকা। এটি ঢাকা শহরের সব চেয়ে কাছের গ্রামীণ জনপদ হওয়া সত্ত্বেও; কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালাতিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চলাচলের এক মাত্র ভরসা সিংহ নদীর উপর নির্মিত দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকো।আসামদিপুর, আকসাইল, চর আকসাইল, মিঠাপুর, মধুরচরসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের ভরসা এই সাঁকোটি।

এটি এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে প্রায় প্রতিবছরই নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার করতে হয়। বর্তমানে সাঁকোটি নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কৃষকসহ মাঠে হাটে বেড় হওয়া হাজারো মানুষ।

এতো কাছে দেশের সব চেয়ে উন্নতমানের জীবন-যাপন আর এই এলাকার লোকেরা পিছিয়ে শতবছর! যে এলাকা থেকে শুরু হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের বিশ্ব জয়ের অভিযান সে এলাকার মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখে একটি পাকা ব্রিজের। এ যেনো বাতির নিচে অন্ধকার!

ব্রিজ নিয়ে নানা দুর্ভোগের কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়া চলাচল করে আসছে। রাতের বেলা টর্চ দিয়া পা টিপ টিপ করে হাটতে হয় এই সাঁকোতে। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সাঁকো দিয়ে অনেকেই পড়ে গেছেন। এভাবে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে মানুষ চলাচল করে এই সাঁকো দিয়ে। কিন্তু নির্বাচন এলেই সকল দলের নেতারা পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোট শেষে তার আর খবর নেয় না।

জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানান, সাঁকো পার হয়ে আমাদের মাদ্রাসায় যেতে হয়। এই সাঁকো দিয়ে আমরা যেতে পারলেও অনেকে পানিতে পড়ে যায়। বৃদ্ধা, শিশু,রোগীরা যেতেই পারে না সাঁকো দিয়ে। কেউ কেউ সাঁকো পার না হতে পেরে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে মাঠে হাটে-বাজারে যায়। এখানে একটা ব্রিজ খুব দ্রুত দরকার।

মধুরচর থেকে আসা নারী পথচারী শেলি বেগম বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমার পাশের গ্রামের মানুষই পা বাড়ালে পাকা রাস্তা পায়। আর আমরা দুই নদী পার হয়ে বাজারে আসি। সরকারের কাছে আমার দাবী দ্রুত আমাদের ব্রিজটি করে দিন।

এ বিষয়ে কলাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাহের আলী কিছু বলতে না চাইলেও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাজাহান বলেন, ব্রিজটি এ বছরই হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। আগামী বছর নাগাদ ব্রিজটি হয়ে যাবে আশা করছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের কয়েকটি মেঘা প্রজেক্টের কারণে আসামদিপুর-মিঠাপুর ব্রিজটি করতে দেরি হচ্ছে। পরবর্তী অর্থবছরে ব্রিজটি হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।
Attachments area