চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় নির্মিত ব্রীজ অকেজো।


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৩ মার্চ, ২০২১

জহিরুল ইসলাম ,খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি:::
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় পৌরসভার বল্টুরাম টিলার ১ নং ওয়ার্ড়ের শেষ এবং ১নং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এর শুরু মাঝখানে ছোট একটি খালের ওপরে ব্রীজ আছে কিন্তু চলাচলের উপযোগী হিসেবে ২ পাশে কোনো রাস্তা নেই। রাস্তা বিহীন ব্রীজটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।অংলাপাড়া এলাকার কয়কটি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের এক মাত্র চলাচলের এই কাচা ভাঙ্গা রাস্তার বেহাল দশা যেনো দেখার কেউ নেই, রাস্তা নির্মাণ না করে ত্রান ও পুন্যবাসন অধিদপ্তর থেকে ২০১০ -১১ অর্থ বছরে ঠিকাদার এর মাধ‍‍্যমে ১ নং প্রকল্পের নির্মাণ করা হয় এই ব্রীজটি। নির্মাণ কাজ শেষে জনস্বার্থে তৎকালীন সাংসদ সদস্য যতিন্দ্র লাল ত্রিপুরা এই ব্রীজটির শুভ উদ্বোধন করেন,জনস্বার্থে উদ্ভোধন করা হলেও এলাকার জনগণের কোন উপকারে আসছেনা নির্মিত এই ব্রীজটি।

স্থানীয়রা জানান সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনর্থক সরকারি টাকা অপচয় করে রাস্তা বিহীন এই ব্রীজ নির্মাণ করেছেন। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা রয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার( ৪ মার্চ ) ২০২১তারিখে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রামগড় পৌরসভার জগৎনার্থ পাড়া এলাকার উত্তর পাশে এবং পূর্বদিকের খালের আনুমানিক ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। আদশ্য গ্রামের পাশের পাকা রাস্তা হতে ৩ কিঃমিঃ ভিতরে যাওয়ার পথে কাচা রাস্তার পাশেই চোখে পড়বে এই সংযোগ সড়কের গাইড অংশবিহীন ব্রিজটির। ব্রীজটির মূল অংশের কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১০বছরেও কোনো পরিকল্পনা নেয়নি দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের কাজ শেষ করার। এবং পৌরসভা ও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়নি রাস্তাটি পূন‍্যাঙ্গ ভাবে নির্মাণের।ব্রীজের সাথে রাস্তার সংযোগ অংশ না থাকায়
অংহলা পাড়া ,মুসলিমপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ বর্ষার সময় চরমভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এদিকে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তবেই জগৎনার্থ পাড়ার মোড় ও আদশ্য গ্রামের রাস্তায় আনার পর বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন অথচ এই ব্রীজটি ব্যবহারের উপযোগী হলে এবং রাস্তাটা ঠিক থাকলেই অংহলা পাড়া ও মুসলিম পাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হতো।

উপজেলার অংহলা পাড়া গ্রামের অংলাপ্রু মার্মা সহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমরা এই কয়েকটি গ্রামের মানুষ পৌরসভা ও ইউনিয়নের মাঝখানে হওয়াতে খুবই অবহেলিত,আমাদের গ্রামে নেই উন্নত মানের যোগাযোগব্যবস্থা।আমরা ১০ বছরেও পাইনি বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া। আমরা অনেক বার কষ্টে কথা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।অনেক অনুরোধ করেও রাস্তার নির্মাণ করাতে পারিনি। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার র ও পৌর কাউন্সিলর সবাই বলে রাস্তা হবে, এই শান্তনায় কেঁটে গেছে ১০বছর। রাস্তার সাথে ব্রীজের সংযোগ না থাকায় ও গাইডলাইনের কারনে আমরা এই ব্রীজটি ব্যবহার করতে পারছি না, আমাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক সফন দাস বলেন আমরা এখানে চাষাবাদ করি,চাষ করা ধান সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র কাঁধে করে আনা নেওয়া করতে হয়,এখানে রাস্তা তৈরী না করেই কালভার্ড সহ সরকারি অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রীজ যা কোন উপকারে আসছে না এখানকার বসবাসকারী মানুষের। চাইলাছিং মার্মা জানান এখানে ব্রীজের তেমন কোন প্রয়োজন ছিলো না সর্বপ্রথম প্রয়োজন রাস্তার,বরং ব্রীজ তৈরী করে সরকারি অর্থ নষ্ট করা হয়েছে। তিনি আরো জানান শীতকাল বিদায় চাষের জমিতে হাটা যাচ্ছে,বর্ষাকালে যখন জমি চাষ করা হবে তখন ভাঙ্গা এবং কাচা রাস্তা দিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট করতে হবে এলাকার মানুষকে।একটি লোক অসুস্থ‍্য হলে বা এলাকার গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে আনা নেওয়া অনেক কষ্টকর শুধুমাত্র রাস্তা না থাকার কারণে। আমরা রাস্তা নির্মাণের জোঁর দাবী জানাচ্ছি।

এবিষয়ে রামগড় পৌরসভার ১-২-৩ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মিসেস আয়শা আক্তার জানান যতটুকু রাস্তা পৌরসভার অধিনে আছে তা নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাজেট আসলেই দ্রুত এরাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে রামগড় এলজিইডি কর্মকর্তা তম্ময় মজুমদার জানান , ত্রান ও পূনর্বাসন অধিদপ্তর আমার অধিনে নয়,এই কাজ যখন প্রকল্পের এবিষয়ে উপজেলা পিআইও বিস্তারিত জানবে। কি ভাবে রাস্তা বিহিন ব্রীজ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে টানা ৪ দিন গিয়েও (পিআইও) কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।