দেলদুয়ারে ধর্মান্তর হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিয়ে অত:পর স্ত্রীকে অস্বীকৃতি


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩ এপ্রিল, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক::দীনবন্ধু প্রামানিক। বয়স পঞ্চাশোর্ধ। পাথরাইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। ২০০১ সালে সনাতন ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তৎকালীন স্কুল গভর্নিংবডির সভাপতি রফিুকল ইসলামের হাত ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। নিয়োগ পেয়েই অবিবাহিত প্রধান শিক্ষক নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ের চেয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি মার্কেটে বেশি সময় দিতেন তিনি। বিতর্ক এড়াতে ৫ বছর আগে তিনি পুষ্পিতা প্রামানিক নামের মেয়েকে বিয়ে করেন। শহরের মার্কেটে অবস্থান কালে ২০১৮ সালে মনোয়ারা সিদ্দিকা নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা পোষাক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে পরকিয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এ প্রধান শিক্ষক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ঘোষনা দিয়ে ধর্মান্তরিত হন দীনবন্ধু। নাম রাখেন দীন ইসলাম। সেই সঙ্গে চার লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন মনোয়ারা সিদ্দিকাকে। সাভার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাজি অফিসে বিবাহ রেজিষ্টি হয়। সম্প্রতি মনোয়ারা সিদ্দিকাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে সর্ব প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এ ধর্মান্তরিত প্রধান শিক্ষক। স্বামীর স্বীকৃতি পেতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মনোয়ারা সিদ্দিকা।
মনোয়ারা সিদ্দিকা জানান, টাঙ্গাইল শহরের হিরা সুপার মার্কেটে তার একটি তৈরী পোশাকের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে মাঝে মধ্যেই পোশাক কিনতে আসতেন দীনবন্ধু প্রমানিক। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয়, প্রেম পরে বিয়ে। বিয়ের সময় ধর্মান্তরিত হয়ে দীনবন্ধু দীন ইসলাম নাম রাখেন এবং ইসলাম ধর্মের রীতি নীতি পালন করতে থাকেন। মনোয়ারা বলেন, এক বৎসর সংসার জীবনে বাড়ি করে দেয়ার নামে দীনবন্ধু আমার নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একাধিকবার ভারতে বেড়াতেও গিয়েছি। সম্প্রতি শুনেছি সে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। কিন্তু আমি এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পাইনি। চলতি বছরের ৯ মার্চ তার বিরুদ্ধে আদালতে আমি একটি যৌতুকের মামলা দিয়েছি। দীনবন্ধুর অপকর্মের শেষ নেই। একজন প্রধান শিক্ষকের এত অপকর্ম আগে জানতাম না। আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে দীনবন্ধু বলেন, মনোয়ারা সিদ্দিকাকে বিয়ে করেছিলাম। ২ মাসে আগে তাকে ডিভোর্সও দিয়েছি। ধর্মান্তরিত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রসেস অনুসারে ওটা করেছিলাম। টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।