দেড় আনা স্বর্ণের জন্য সরাইলে শিশু খুন, গ্রেপ্তার ৩


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৭ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:: মাত্র দেড় আনা স্বর্ণের জন্য সরাইলে পরিকল্পিত ভাবে শিশু তাশফিয়া আক্তার হাজেরাকে (০৯) নির্মম ভাবে খুন করেছে রনি বেগম (২১) ও তার সহযোগিরা। গত মঙ্গলবার রাতে সরাইল সদর ইউনিয়নের নোয়াহাটি গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহ বশত জনতার হাতে আটক রনি বেগম সহ ৩ জন হত্যার দায় স্বীকার করে। গভীর রাতে পুলিশ ঘটনার মূল হোতা রনি সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলীর বাড়ির পাশে লাকড়ির নীচ থেকে হাজেরার মৃত দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। বুধবার সকালে হাজেরার লাশটি ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আর দুপুরের দিকে হাজেরার কানের দেড় আনা স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও নিহত শিশুর স্বজনরা জানায়, নোয়াহাটি গ্রামের আবদুল কাদের মিয়ার কন্যাশিশু হাজেরা। ১ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে হাজেরাই বড়। নোয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী হাজেরা। শ্রমজীবী কাদের কোন রকমে সংসার চালায়। আদর করে কন্যাকে দেড় আনা স্বর্ণ দিয়ে দুটি জিনিষ তৈরী করে দিয়েছিলেন পিতা। কে জানত? বাবার দেওয়া স্বর্ণের জন্যই জীবন যাবে শিশু হাজেরার। ওই স্বর্ণের উপর নজর পড়ে একই গ্রামের মতিন মিয়ার মেয়ে রনি বেগমের। রনির সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে একই গ্রামের সাবাজ আলীর ছেলে হোসেনের (২০)। আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক না থাকলেও রনি থাকত হোসেনের বাড়ির একটি দু’চালা টিনের ঘরে। গত ৫-৬ দিন ধরে রনি সময় অসময়ে হাজেরার বাড়িতে যাওয়া আসা করছে। সেখানে হাজেরার সাথে খেলা করে। হাসি তামাশা করে। আদরও করে। বিষয়টি ভালভাবে নেননি হাজেরার দাদী রেজিয়া বেগম (৭০)। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রনি বাড়ি থেকে ডেকে আনে হাজেরাকে। এরপর থেকেই নিখোঁজ হাজেরা। বাবা সহ সকল আত্মীয়স্বজন কোথাও খুঁজে পায়নি শিশুটিকে। রাতেই ঢাকা-সিলেটে মহাসড়কের বিশ্বরোড, সরাইল সদর ও আশপাশের এলাকায় হাজেরার সন্ধানে মাইকিং করা হয়। রনির চলাফেরা ও কথা বার্তায় অসংলগ্নতা দেখে সন্দেহ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন প্রথমে রনিকে পরে হোসেন মিয়া ও জামির (২২) কে আটক করে। জনতার জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ড ঘটানোর দায় স্বীকার করে রনি। রনির তথ্য মতে শিশু হাজেরার লাশ উদ্ধার করে স্বজনরা। রাত ২টার পর রনি হোসেন ও জামিরকে পুলিশে সোপর্দ করে। আর গতকাল সকালে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রনির দেয়া তথ্যানুসারে গতকাল দুপুরে হাজেরার কানের দেড় আনা ওজনের স্বর্ণের জিনিষও উদ্ধার করেছেন পুলিশ। বিকাল বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ি সুশান্তের দোকানে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রনি ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিল। নিহত রনির দাদী হাজেরা বেগমসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, রনির বেপরোয়া ও উশৃঙ্খল জীবন-যাপনে এলাকাবাসী আতঙ্কিত থাকে। একাধিক বিয়ে করেছে। এখন কোন স্বামী নেই। হোসেনের সাথে তার অবাধ মেলামেশা। শুধু সামান্য স্বর্ণের লোভে রনি, হোসেন ও জামির মিলে শিশুটিকে হত্যা করেছে। আমরা এমন বর্বর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনচার্জ মো. কবির হোসেন (তদন্ত) বলেন, শিশুটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। জনতার সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। শিশুর কানের স্বর্ণও উদ্ধার করেছি। তদন্ত চলছে।