ঢাকাবুধবার , ২৮ এপ্রিল ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এক্সক্লুসিভ
  4. কৃষি ও প্রকৃতি
  5. খেলা
  6. জীবনযাপন
  7. তথ্য ও প্রযুক্তি
  8. প্রচ্ছেদ
  9. প্রবাসের খবর
  10. বাংলাদেশ
  11. বিনোদন
  12. লাইফস্টাইল
  13. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থে নির্মিত আবাসিক স্কুল ১৫বছরেরও আলোর মুখ দেখেনি

প্রতিবেদক
২৪ ঘন্টা বার্তা
এপ্রিল ২৮, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জহিরুল ইসলাম,রামগড়, খাগড়াছড়ি::

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় রামগড় আবাসিক স্কুলটি ১৫বছরেরও আলোর মুখ দেখেনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত ভবনে রাতের আধাঁরে চলছে মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজ, যা প্রশাসনের নাকের ডগাতে হওয়ার পরও প্রশাসনের নিরবতায় লজ্জিত এলাকাবাসী,
খাগড়াছড়ি পাবত‍্য জেলার রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে’র এবং বিজিবি জোন সদরের পাশে
নুরপুর নামক স্থানে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ঠিকাদার কর্তৃক ২০০৫-৬অর্থ বছরে সরকারের পাচঁ কোটি টাকা ব‍্যয়ে নির্মাণ করা হয় রামগড় আবাসিক স্কুল। স্কুলটি নির্মাণকাজ শেষে এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কোমলমতি অসহায় গরীব অনাথ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে তৎকালীন সাংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া (এমপি)স্কুলটি প্রকল্প ভুক্ত করেন। সকল ধরণের জনবল নিয়ে স্কুলের কার্যক্রম সুন্দর ভাবে চালু করা হয় ,ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়,এবং বিজ্ঞপ্তি শেষে ভর্তি করানো হয় ছাত্র ছাত্রী, কিন্তু ক্লাস করার সুযোগ হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ স্কুলটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবুও অফিশিয়াল ভাবে স্কুলের নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা,বেশ কিছু দিন কার্যক্রম চালিয়ে নেন,কিন্তু বেতন ভাতা না থাকাতে শিক্ষক কর্মচারীরা অফিসে যাতায়াত বন্ধ করে দেন,স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা বর্তমানে মানবতার জীবন যাপন করছেন বলেও জানা গেছে।একাবাসীর সুত্রে জানা গেছে আবাসিক স্কুলটি নুরপুরে স্থাপন করাতে মানুষের জন্য দূর্গম ও অন্ধকারে ঘেরা এলাকাটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিণত হয়েছিল।বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে। সরকারের কোটি টাকা ব‍্যয়ে নুরপুর আবাসিক স্কুলের ভবনগুলা বনে জঙ্গলে ভূতে দখল করে রেখেছে, এবং মাদক সেবনকারীদের উত্তম স্থান হিসেবে অত্র এলাকায় পরিচিত লাভ করেছে আবাসিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।সরকারের কোটি টাকার সম্পদ ধংশ হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যেনো দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের নামপ্রকাঁশে অনিইচ্ছুঁক কয়কজন বলেন স্কুল সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমাদের এলাকার লোকজন বলে আমরা নাকি ওয়াদুদ ভুঁইয়ার দালাল তাই পরিচয় দিতে ভয় লাগে ‘আবার পরিচয় জানতে পারলে এলাকায় বসবাস করাও কঠিন হয়ে যাবে, তবুও এলাকার স্বার্থে বলতে হচ্ছে, আবাসিক স্কুলটি তৈছালার নুরপুর এলাকাতে নির্মাণ করাতে এলাকার গরীব অসহায় ছেলে মেয়েদের জন্য অনেক ভালো হয়েছিল,নুরপুরে ১৯৮৬ সালের পর থেকে মানুষের বসবাস ছিলো না,আবাসিক স্কুলটি নির্মাণ হওয়াতে ঐখানে বিদুৎসহ যাতায়াতের সুব‍্যবস্থার কারণে মানুষ নিরাপত্তা পেয়ে নতুন করে বসবাস শুরু করেন ,তবে ভাগ‍্যের নির্মম পরিহাস যে বিএনপি সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায়ী হওয়ার সাথে সাথে আবাসিক স্কুলের সকল কার্যক্রম অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়।বর্তমানে নির্মাণ করা স্কুলের টিন, দরজা,জানালা, গেইট বিদুৎ,খুঁটি পানির লাইনের ফাইভ পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গেছে, সরকারের কোটি টাকার সম্পদ শুধুমাত্র একটু তদারকি’র অভাবে ও প্রতিহিংসার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষা এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আলো নিবিঁয়ে জ্বালানো হয়েছে মাদকের আলো,আর অসামাজিক কার্যক্রমের রাজপ্রাসাদে পরিণত হয়েছে ।স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব অসামাজিক কার্যক্রম সত্যি এলাকার জন্য লজ্জাজনক বিষয়।আশা করি দলমত নির্বিশেষে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে সরকারি অর্থে নির্মিত এই আবাসিক স্কুলটি পুনরায় সংস্কার করে চালু করলে রাষ্টীয় সম্পদ যেমন রক্ষা হবে তেমনি রামগড়ের অসহায় গরীব অনাথ ১২০জন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিশেষ অবদান রাখবে।

উল্লেখ ঃ তিন পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি’র রামগড় -রাঙ্গামাঠি-রাজস্থলি -বান্দারবন রোমা উপজেলায় আবাসিক স্কুলের প্রকল্পের জন্য ৫ কোটি করে মোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়।রাঙ্গামাঠি ও বান্দারবনে এই স্কুল চালু হলেও হতভাগা রামগড়ের এই আবাসিক স্কুলটি ১৫ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি।

error: Alert: Content is protected !!