ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এক্সক্লুসিভ
  4. কৃষি ও প্রকৃতি
  5. খেলা
  6. জীবনযাপন
  7. তথ্য ও প্রযুক্তি
  8. প্রচ্ছেদ
  9. প্রবাসের খবর
  10. বাংলাদেশ
  11. বিনোদন
  12. লাইফস্টাইল
  13. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুরান ঢাকাতে রাসায়নিক কেমিক্যালের মজুদ গোটা দেশের এক-তৃতীয়াংশ

প্রতিবেদক
২৪ ঘন্টা বার্তা
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ৮:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক:::

পুরো দেশের রাসায়নিক কেমিক্যালের মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ পুরনো ঢাকার মুজ থেকেই মেটানো হয়। আর যুগ যুগ ধরেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই দিব্যি রাসায়নিকের ব্যবসা চলছে। তাতে ব্যবসায়ীদের বিন্দুুমাত্র অসুবিধা হচ্ছে না। সেজন্য কাউকে জবাবদিহিও করতে হয় না। সরকারের বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার লোকজনকে ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। বহুতল ভবনের নিচতলায় বিশাল গুদাম আর উপরে মানুষের বসবাস, হাজার হাজার এমন স্থাপনা রয়েছে। বড় ধরনের অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে কিছু বিষয়টি নিয়ে নড়াচড়া হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আগের জায়গায় চলে যায়। ফলে পুরনো ঢাকা থেকে সরানো যাচ্ছে না বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুদ। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বিস্ফোরক অধিদফতর, কেমিক্যাল ব্যবসায়ী এবং পুরনো ঢাকার বাসিন্দাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের কারখানা চালানো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বৈধভাবে এ ধরনের ব্যবসা করতে গেলে সরকারের ৯টি সংস্থার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কেমিক্যাল ব্যবসায় ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশান, স্থানীয় থানা, বিস্ফোরক অধিদফতর, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ কমপক্ষে ছোট-বড় ৯টি সরকারি দফতরের অনুমোদন নিতে হয়। বৈধভাবে ওই ৯টি দফতর থেকে ছাড়পত্র নেয়াটা খুবই কঠিন ও জটিল। বিশেষ করে সরকারের নিয়মনীতি মেনে আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার করার কোন সুযোগই নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পুরান ঢাকায় যুগ যুগ ধরে অবৈধভাবেই বিপজ্জনক এ ব্যবসা চলে আসছে। ছোট্ট আয়তনের পুরান ঢাকায় এতো বিপুলসংখ্যক কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদামের অবস্থান কতোটা ভয়ঙ্কর তা দু’একটি অগ্নিদুর্ঘটনাতেই উপলব্ধি করা গেছে। আগুন না লাগলে রাসায়নিকের সেব দোকানপাট ও কারখানা অন্যান্য দোকানের মতোই নিরাপদ। সেজন্যই সবার চোখের সামনে যুগ যুগ ধরে নির্বিঘেœ বিপজ্জনক এ ব্যবসা চলছে।
সূত্র জানায়, পুরনো ঢাকার আরমানিটোলা, কোতোয়ালি, লালবাগ ও সূত্রাপুর থানার জুড়ে বিপুলসংখ্যক বিপজ্জনক রাসায়নিক কারখানা, গুদাম ও দোকান রয়েছে। সরকারি কোনো দফতরে তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। নিমতলীর আগুনের পর কমপক্ষে ছোট বড় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী এ পেশায় জড়িত বলে সিটি কর্পোরেশনের জরিপে জানানো হয়। তারপর চুড়িহাট্টার দুর্ঘটনার পর বলা হয় ওই সংখ্যা কমপক্ষে ৪ হাজার। আবার গুদাম সরানো প্রকল্পের পরিসংখ্যানে তা আড়াই হাজারে নেমে আসে। অর্থাৎ গাটা পুরান ঢাকায় বিপজ্জনক কেমিক্যালের কতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সরকার গত এক যুগেও তার হিসাব করে বের করতে পারেনি। যদিও পুরান ঢাকার বাইরে গোটা ঢাকাতেই এ ধরনের ব্যবসা চলে আসছে। কেমিক্যাল ব্যবসা করতে গেলে কমপক্ষে সরকারী ৯টি সংস্থার ছাড়পত্র অনুমোদন লাগে। তার মধ্যে প্রথমেই সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স। যা অনায়াসে মিলে। অথচ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের লাইসেন্স কিছুতেই দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, নিমতলীর ও আরমানিটোলার মতো ঘিঞ্জি এলাকায়ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র পাওয়া যায়। যা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। অথচ এভাবেই নেয়া হয় কেমিক্যাল কারখানা ও ব্যবসার অনুমোদন। মূলত টাকা ও প্রভাবের বদৌলতে অসম্ভবকে সম্ভব করা হচ্ছে। আর কিছু লোক রয়েছে যারা কোন ধরনের বৈধতার কাগজপত্র নেই। একেবারের অবৈধভাবে নির্বিঘেœ নিরাপদে বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করছে।
সূত্র আরো জানায়, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ব্যবসা চালানোর বিষয়ে শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর দায় চাপানো ঠিক হবে না। বাড়িওয়ালাদের অতিলোভের বিষয়টিও দেখতে হবে। একজন বাড়িওয়ালা তার রাস্তার পাশে তার বাড়ির নিচতলার ছোট্ট একটা রুম যদি আবাসিক ভাড়াটের কাছে ভাড়া দেয় তাহলে বড়জোর মাসে ১০ হাজার টাকা পায়। কিন্তু ওই রুমই যদি কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর কাছে দেয়া হয় তাহলে ভাড়া আসে দ্বিগুণ। ওই বাড়তি ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালারা কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়ে গোটা বাড়িটাকেই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক করে তোলে। কেউ এর প্রতিবাদও করে না, বিপদও বুঝে না। এভাবেই যুগ যুগ ধরে চলছে। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে থানা পুলিশসহ সরকারের ৯টি সংস্থা। তাদের ম্যানেজ করেই যুগের পর যুগ এ রাসায়নিকের কারবার চলছে। এখন আরমানিটোলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ওই ধরনের অবৈধ ব্যবসার বিচার ও তদন্তের দাবি উঠেছে। পুরান ঢাকায় কতটি রাসায়নিক গুদাম, কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা খুঁজে বের করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৩টি টিম গঠন করে। ইতোমধ্যে ওই কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে তালিকা প্রণয়ন করে তা জমা দিয়েছে। পুরান ঢাকার জরিপ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সম্প্রতি পুরান ঢাকা এলাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানার তালিকা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে জমা দিয়েছে ডিএসিসি। রাসায়নিকের গুদাম গত ১০ বছরে যেমন স্থানান্তর করা যায়নি, তেমনি পুরান ঢাকাকে অগ্নিকা-ের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সরকার এই সময়ে তেমন কোন উদ্যোগও নেয়নি। ফলে সরকারী বিভিন্ন সংস্থাও রাসায়নিক আমদানির অনুমোদন দিয়ে সেটা কোথায় রাখা হচ্ছে, তার খোঁজ রাখেনি। কোন সংস্থা আবার লাইসেন্স দেয়া বন্ধ রাখলেও অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সংস্থাগুলোর এমন সমন্বয়হীনতার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ঠিকানায় ব্যবসার অনুমতি নিয়ে পুরান ঢাকার ভেতরেই রাসায়নিকের মজুদ ও ব্যবসা নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার সাম্প্রতিকতম পরিণতি আরমানিটোলার অগ্নিকা-। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তারা কঠোরভাবে অভিযান চালাতে পারছে না। কারণ এতে রাসায়নিক দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল শিল্পকারখানায় প্রভাব পড়বে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হায়দার আলী জানান, পুরান ঢাকায় রাসায়নিক ব্যবসা করার জন্য কাউকেই ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হয়নি। আগে যাদের দেয়া হয়েছিল কয়েক বছর আগ থেকেই তাদের লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মুসা ম্যানসনে দোকান পরিচালনায় সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক পরিদফতরের ছাড়পত্র ছিল না। এখন নতুন করে কাউকে রাসায়নিক ব্যবসা পরিচালনায় অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক পরিদফতরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, পুরান ঢাকায় অবৈধ রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সামর্থ্য বিস্ফোরক অধিদফতরের কম। তাছাড়া ঢাকার বাইরের ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কোন ব্যবসায়ী পুরান ঢাকায় ব্যবসা করলেও কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে সেটা বের করার উপায় নেই।

 

error: Alert: Content is protected !!