ঢাকাসোমবার , ২৪ মে ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এক্সক্লুসিভ
  4. কৃষি ও প্রকৃতি
  5. খেলা
  6. জীবনযাপন
  7. তথ্য ও প্রযুক্তি
  8. প্রচ্ছেদ
  9. প্রবাসের খবর
  10. বাংলাদেশ
  11. বিনোদন
  12. লাইফস্টাইল
  13. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

 ফ্রি ফায়ার গেম কেড়ে নিচ্ছে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ:হতাশ অভিভাবকেরা

প্রতিবেদক
২৪ ঘন্টা বার্তা
মে ২৪, ২০২১ ২:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ নাজমুল, মেরেলগঞ্জ (বাগেরহাট )প্রতিনিধি:::বর্তমান বাংলাদেশে বহূল প্রচলিত ইন্টারনেট গেম ফ্রি ফায়ার ,পাবজি কেড়ে নিচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মুল্যবান ভবিশ্যৎ ।দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ছে দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।দেশে বিশ্ব মহামারি করোনার প্রভাবে স্কুল কলেজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারনে দিন দিন শিক্ষার্থীরা ঝুঁকে পড়ছে এসব ইন্টারনেট গেমে এমনটাই ধারনা করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ।তাছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি মোবাইল ফোনের অধিক সহজলভ্যতা আর ইন্টারনেটের বদৌলতে সহজেই এসকল গেমের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকার ফলে পড়াশুনা ছেড়ে গেমিংয়ে সময় পার করছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও গেম খেলার জন্য ইন্টারনেট বিলের টাকার জোগান দিতে ছিনতাই, চুরি,ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কখনও কখনও জড়িয়ে পড়ছে বর্তমান তরুন সমাজের অধিকাংশ তরুন। বিষয়টির ক্ষতিকর দিকটি দিন দিন ভাবিয়ে তুলছে অভিভাবকদের ।তাছাড়া দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রতিদিনি ভেসে আসছে ফ্রি ফায়ার বা পাবজি খেলা নিয়ে নানা রকমের সংবেদনশীল খবর।এমনকি এ খেলার জন্য মৃত্যুবরনেরও খবর প্রচার হয়েছে অনেক পত্রিকায়। এ নিয়ে হতাশ অভিভাবকগন। সন্তানদের ভবিশ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তারা। তারা মনে করছেন অচিরেই এই খেলাগুলি বন্ধ না করা হলে দেশের ভবিশ্যৎ প্রজন্মের উপর পড়বে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফলে দেশের দক্ষ জনবল তৈরিতে ঘটবে চরম ঘাটতি। এমনকি জাতী হয়ে পড়তে পারে অদূর ভবিশ্যতে মেধা শুন্য। এ বিষয় নিয়ে মেরেলগঞ্জ সরকারি সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের সহকারি অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন (৫০)বলেন
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অনেকাংশ ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে যাবার কারনে ও দীর্ঘদিন যাবৎ লকডাউনের ফলে স্কুল কলেজ গুলো বন্ধ থাকায় পড়াশুনার কোন চাপ না থাকায় শিক্ষার্থীরা নেটে ব্যাপক সময় পার করার সুযোগ পাচ্ছে।এর ফলে তারা সহজেই ইন্টারনেটের গেমগুলির প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়তেছে। তিনি এর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে আরও বলেন সারা দিন রাত কিছু শিক্ষার্থী ইন্টারনেট গেম ফ্রি ফায়ার বা পাবজি নিয়ে পড়ে থাকে যার ফলে তাদের শারিরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে দিন দিন মেধাবী ছাত্রের সংখ্যা কমতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি। বিশ্বে ইন্টারনেট সর্বপ্রথম ১৯৯০ সালে প্রথম বানিজ্যিক ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলেও বর্তমানে তা বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে আধুনিক প্রযুক্তির বলে।মাল্টি মিড়িয়া বিনোদনের পদ্ধতি পাল্টে দিলেও। আলাদা আলাদা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এখন ব্যাপক ব্যাবহার হচ্ছে আধুনিক এন্ড্রোরাইড ফোন গুলি। তাছাড়া কম্পিউটার গেমস তৈরির কাজে এখন মাল্টি মিড়িয়া ব্যাবহার হয়ে থাকলেও, ছোট বড় সকলেই কম্পিউটার গেম এবং অ্যাডভেঞ্চার উপোভোগ করতে পছন্দ করছেন হরহামেশাই। তাছাড়াও বর্তমান ইন্টারনেট মাধ্যমে অনলাইন গেম গুলি মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ায় আসক্ত হচ্ছেন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী।আধুনিক মোবাইল ডিভাইসের সহজলভ্যতা আর বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ফলে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ তরুন তরুনি আসক্ত হচ্ছে ইন্টারনেট গেমিংয়ে। বর্তমানে বিশ্বে ১২০ কোটির বেশি মানুষ গেমে সক্রিয়। বর্তমান ভিডিও গেমের বাজার ১০০০০ কোটি ডলার এর বেশী। তাছাড়া বর্তমানের মোবাইল গেম ব্যাবহারকারীর সংখ্যা ৯৬ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি সংখ্যক । এমনকি মোবাইলে যতো অ্যাপস নামানো হয়, তার ৭০ শতাংশই গেম অ্যাপস।এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীরা প্রতিদিন গেম খেলেন ।বিগত এক দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নতির দিক হলো মোবাইল কমিউনিকেশন। এই খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত অগ্রসারমান দেশ ।তবে এ দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং ৯৮ শতাংশ এলাকা বর্তমানে মোবাইল নেটোয়ার্কের আওতায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মুদ্রন ও সম্প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন মিড়িয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারনে বেড়েছে ইন্টারনেট গেমিং আসক্তের সংখ্যা ।ইউএসএইড এর এক জরিপে দেখা যায়, সারা বিশ্বে মোট ৬০০ কোটি মোবাইল ফোন ব্যাবহার করা হয় ।যার মধ্যে শুধু উন্নায়নশীল বিশ্বে ৪৫০ কোটি মোবাইল বা মুঠো ফোন ব্যাবহার হচ্ছে। এছাড়াও জাতিসংঘের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের ( আইটিইউ) ২০১২ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলেন বিশ্বের এক – তৃতীয়াংশ মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন।


এরি ধারাবাহিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের মানুষও তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটের ব্যাবহার বাড়াচ্ছেন দিনদিন।বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাবহারকারীদের মধ্যে অধিকাংশই তরুন তরুনি। ছোট বড় সকলের হাতেই এখন দেখা মিলছে একটি আধুনিক মুঠোফোন ।ফলে অল্পতেই জড়িয়ে পড়ছেন বিশ্ব ইন্টারনেট জালে। আসক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন ইন্টারনেটের ফ্রি ফায়ার পাবজি সহ নানা রকমের গেমগুলোতে।বর্তমান ইন্টারনেট গেমিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতিকারের বিষয় নিয়ে খুলনা পপুলার ডায়াগনিস্ট সেন্টারের ডাঃ মোস্তাফিজুর বলেন,শারিরিক ব্যায়াম খেলাধুলা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। শরীর ও মনের সুস্থতার উপরেই নির্ভর করে তার ভবিশ্যৎ জীবনের সুখ – সমৃদ্ধি। খেলাধুলা শরীর গঠনের এক অন্যতম উৎস। এমনকি খেলাধুলার মধ্যেই মানুষ খুজে পায় জীবন বিকাশের পথ, পায় জীবন সংগ্রামের দৃঢ় মনোবল। বর্তমানের তরুন প্রজন্মকে মাঠমুখী খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলার পরামর্শ দেন তিনি ।তিনি আরও বলেন বর্তমানে অভিভাবকদের বিরাট ভুমিকা পালন করতে হবে তাদের সন্তানের সুষ্ট বিকাশের জন্য।কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ার দিকে আগ্রহ সৃষ্টি করে পাঠদানে মনোযোগী করারও পরামর্শদেন তিনি। ডাঃ মোস্তাফিজ আরও বলেন এক জায়গায় বসে দীর্ঘক্ষন মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে স্ক্রিনের অতি বেগুনি রশ্মি চোখের মারাত্বক ক্ষতিসাধন করতে পারে।তাছাড়া অনেক অল্প বয়সি ছেলে মেয়েদের চোখে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি অন্ধ হবারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও একঝোঁকে মনোযোগ দেবার কারনে মস্তিস্কে মারাত্বক হেমারেজ হয়ে মানুসিক রোগিতে পরিনত হবার তীব্র আশংকা থাকে বলে জানান ডাঃ মুস্তাফিজ। তাই প্রত্যেক অভিভাবকদের তাদের সন্তানের দিকে নজর দিয়ে তাদেরকে মাঠমূখী খেলাধুলায় ফিরিয়ে আনার আহব্বান জানান তিনি।
সর্বশেষ সরকারের শিক্ষামন্ত্রনলায়কে শিক্ষার্থীদের এসকল ক্ষতিকর দিক থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবার কথাও বলেন তিনি।

error: Alert: Content is protected !!