বরগুনায় যুবককে কুপিয়ে জখম করল সন্ত্রাসীরা


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৪ মার্চ, ২০২১

:: বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রফিক বিশ্বাস (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাত ১০টায় সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।রফিক সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া গ্রামের সালাম বিশ্বাসের ছেলে।গুরুতর অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিমে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোড়া এলাকায় ইউপি সদস্য প্রার্থী ফোরকান সিকদারের বাড়িতে কর্মী সভা থেকে ফিরছিলেন রফিক। পথে ইউসুফ শরীফের বাড়ির সামনে আসতেই কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে।ওই কর্মী সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, ইউসুফ শরীফের বাড়ির সামনে জয়নাল মেম্বারের ছেলে সোহেল, টিটু মেম্বার এবং ইউসুফ শরীফের ছেলে আজিমসহ বেশ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। রফিক ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডেকে পার্শ্ববর্তী একটি ঘেরে নিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় ইউসুফ শরীফের নিরাপত্তায় মোতায়েন বেতাগী থানা ও চান্দখালি পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচজন পুলিশ সদস্য ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। চিৎকার শুনে ওই পুলিশ সদস্যরা রফিককে উদ্ধার করে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল আবাসিক অফিসার ড. রবীন্দ্রনাথ সরকার জানান, আহত রফিকের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ভোড়া এলাকার জামাল, জয়নাল ও ফয়সাল বিশ্বাস জানান, আহত রফিক সম্পর্কে তাদের চাচাত ভাই। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। নবজাতক সন্তানকে দেখতে সপ্তাহখানেক আগে রফিক বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পরপরই ইউসুফ শরীফের ছেলেরা নির্বাচনে তাদের পক্ষ হয়ে কাজ করতে বলেন। কিন্তু ডাকে সাড়া না দেওয়ায় ইউসুফ ও তার ছেলেরা ক্ষুদ্ধ ছিল। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে তাদের তিনটি ঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং রাতে রফিককে কুপিয়ে যখম করা হয়।ওই ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইমাম হোসেন শিপন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশি নিরাপত্তায় আমার কর্মী ও সমর্থককে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টার দিকে তিনটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। ইউসুফ শরীফ ও তার ছেলেরা চার মাস আগে আমাকে কুপিয়ে জখম করেছিল প্রায় পঙ্গু অবস্থায় আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জামিন নিয়ে ইউসুফ গং এলাকায় ফিরেই একের পর এক তাণ্ডব চালাচ্ছে। বেতাগী থানা পুলিশের সামনেই আমার ওপর হামলা হয়েছিল। আর আজকে পুলিশ পাহারায় আমার সমর্থককে কোপানো হয়েছে। ইউসুফ ও তার ছেলেদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতার না করলে তারা একের পর এক তাণ্ডব চালাতেই থাকবে।এ বিষয়ে কথা বলতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ শরীফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া তার ছেলে আজীমের নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় রফিক নামের একজনকে উদ্ধার করে বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার প্রসঙ্গে ওসি তপু বলেন, পুলিশ ওই এলাকায় টহলরত থাকলেও ঘটনাস্থল থেকে দূরে ছিল।গত ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের কালিকাবাড়িতেই হামলার শিকার হন বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দার। তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন একই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ শরিফ তার দুই ছেলেসহ সমর্থকরা।এ ঘটনায় ইউসুফ ও তার দুই ছেলেসহ ১৪ জনকে আসামি করে বেতাগী থানায় মামলা দায়ের হয়। ওইদিনের পর থেকে লাপাত্তা ছিলেন ইউসুফ ও তার পরিবার। বুধবার হাইকোর্ট থেকে ইউসুফ জামিন লাভ করেন এবং গত শুক্রবার এলাকার আসেন। ওইদিনও ইউসুফ ও শিপন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ জন আহত হন।হামলার শিকার শিপন তিন মাসেরও বেশি ঢাকা জাতীয় অর্থপেডিক্স হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজ ইউনিয়ন বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি আসেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।