বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতাল মেঝেতে শতাধিক রোগী


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৩ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক::হঠাৎ করেই বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ২৪ ঘন্টায় অন্তত শতাধিক রোগী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিট না থাকায় মেঝেতে ঠাঁই নিয়েছেন অনেক রোগী। চিকিৎসক সংকটের কারনে রোগীদের সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে দায়িত্বরত স্বাস্থ বিভাগ।বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় ৬২জন রোগী আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। সূত্র আরো জানায়, মার্চের শুরু থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে। প্রথম সপ্তাহে গড়ে ২০জনের মত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়। গততিনদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গড়ে ৪০ জনে পৌছায় এবং সবশেষ ২৪ ঘন্টায় তা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ পর্যন্ত ২৩০ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ১৯৮ জন ভর্তি রয়েছেন।বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগে মাত্র আটটি বেড রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় রোগীরা হাসপাতালে মেঝেতে বিছানা পেতেছেন। আজ শনিবার দুপুরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলার মেঝেতে অনেকেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। মেঝের নোংরা ও অপরচ্ছিন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হয়েছে তাদের। এতে চরম রোগীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, বেড না থাকায় মেঝের নোংরা পরিবেশে তাদের অবস্থান নিতে হয়েছে। মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি গতরাতে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্ত এখনো পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিতে আসেননি। শুধুমাত্র সেবিকারা এসে রাতে স্যালাইন দিয়েছে।জেনারেল হাসপাতালের তত্তবধায়ক সোহরাব উদ্দীন বলেন, এমনিতেই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই, নেই বেড। এ অবস্থায় হঠাত বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় আমার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে দু একদিনেই প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দেবে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদেও সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, গরমের মৌসুম শুরু হওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা অতটা স্বাস্থ সচেতন নয়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার কারণে রোগ জীবানুর আক্রমনের শিকার হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেও সেবা নিশ্চিতের লক্ষে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি।