ফলোআপ

বরিশালের মীরগঞ্জ ঘাটে অনিয়ম : প্রতিবাদকারী যাত্রীকে নির্যাতন করে নদীতে নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক:::: বরিশালের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দীপ অঞ্চল হিজলা-মুলাদী এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। তিনটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মীরগঞ্জ খেয়াঘাট। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ট্রলারে পারাপার করে থাকেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন উপজেলার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারাদাররা। মূল্য তালিকায় যাত্রী প্রতি ৭টাকা ভাড়া লিখে রাখা হলেও আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা করে। শুধু তাই নয়, ঘাটের ট্রলার বন্ধ রেখে রিজার্ভ ট্রলারের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর এর প্রতিবাদ করলেই ইজারাদার এবং ঘাটের লোকজন কর্তৃক হয়রানি মারধর এবং নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে যাত্রীদের।সম্প্রতি মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতা আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করে ঘাটের লোকেদের নির্মমতার শিকার হয়েছেন এক যাত্রী। তাকে ঘাট থেকে ট্রলারে তুলে কয়েকজন মিলে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। নির্যাতন শেষে তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে নদীতে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুলেছেন হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার মানুষ। তারা এই ঘটনার বিচার দাবি করলেও নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন থানা পুলিশ এবং ইজারা কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসন। ফলে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তিন উপজেলার মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ‘সোমবার সকাল ১০টার দিকে একব্যক্তি একজন অসুস্থ রোগীসহ তিনজন নিয়ে ট্রলার পারাপারের জন্য মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে যান। ঘাটে ১০ টাকা করে তিন জনের ভাড়া বাবদ ৩০ টাকায় আদায় করা হয় তার কাছ থেকে। ট্রলার পারাপারের পরে তার কাছ থেকে আরও ২০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা দাবি করে। তখন তিনি ঘাটে ৩০ টাকা দেয়ায় ট্রলারেও ৩০ টাকা দিবেন বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘ঘাটের লোকেরা তার এই দাবি মানেনি। এসময় যাত্রী ট্রলারের লোকেদের জানায় ‘ঘাটের লোক তার মামা হয়’। এ কথা বলা মাত্রই ট্রলারের লোকেরা যাত্রীকে বলেন ‘চল ওপারে তোর মামুর কাছে চল’ এই বলে তাকে মারতে মারতে টেনে হিচড়ে ট্রলারে তোলে। ঘাটের অসংখ্য লোক এ দৃশ্য দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যক্ষ করলেও কেউ তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। বরং ঘাটের কয়েকজন লোক ট্রলার শ্রমিকদের সাথে যুক্ত হয়। তারাও ওই যাত্রীকে মারধর শুরু করে।এক পর্যায় যাত্রীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিতে রশি দিয়ে তার হাত পা বাঁধার চেষ্টা করে। এক পর্যায় ওই যাত্রী নিজের জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দেন। তখন ট্রলার শ্রমিকরা তাকে বাঁশ দিয়ে পেটাতে শুরু করে। কোন রকম সাঁতরে তীরে উঠে ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়ওই যাত্রী। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসেনি বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তাছাড়া কোন ভিডিও আমার কাছে আসেনি এমনকি কেউ কোন অভিযোগ নিয়েও আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘাটের ইজারাদার সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে যাত্রী নির্যাতন এবং জিম্মি করার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং ঘাট থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে থাকেন থানার কয়েকজন অসাধু সদস্য। তারা থানার বকসির মাধ্যমে ঘাট থেকে মাসহারা পেয়ে থাকেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ বরিশাল জেলা পরিষদ। তারা বছর শেষে মোটা অংকের টাকায় ঘাট ইজারা দিচ্ছেন। ইজারা বুঝিয়ে দেয়ার পরে তাদের আর কোন দায়িত্ব থাকে না। জেলা পরিষদ কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নিরবতার কারণেই মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে তিন উপজেলার লাখ লাখ মানুষ জিম্মি হয়ে আছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সূত্র: BSL NEWS 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button