বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেনো টর্চার সেল


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৯ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক::হাতে হাতকড়া, বেধড়ক নির্যাতন, চিৎকার, আর্তনাত। তবুও রেহাই নেই এক যুবকের। একপর্যায়ে ওই যুবকের মাথা পা দিয়ে চেঁপে ধরে নিজ কক্ষে কয়েকদফায় বেধড়ক পিটাচ্ছেন বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবদুল মালেক তালুকদার।
নির্যাতনের স্বীকার ওই যুবক পানি পান করতে চাইলেও তাকে পানি না দিয়ে হাতে কাগজে মোড়ানো একটি পোটলায় ইয়াবা ধরিয়ে দিয়ে জোরকরে ওই যুবকের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেন ইন্সপেক্টর আবদুল মালেক। নির্যাতন সইতে না পেরে তার (মালেক) শিখিয়ে দেয়া স্বীকারোক্তি দেয়ার পর হাতের হাতকড়া খুলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে ওই যুবককে।
এনিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিদর্শক আবদুল মালেক তালুকদারের টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অতিসস্প্রতি একটি ভিডিও সংবাদকর্মীদের হাতে এসে পৌঁছার পর পুরো ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অর্থের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে এক যুবককে হাতকড়া পরিয়ে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। দফায় দফায় মারধরের ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, ওই যুবকের মাথা পা দিয়ে চেঁপে ধরে লাঠিদিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। এমনকি দাম্ভিকতার সাথে আবদুল মালেক ওই যুবকের মা ও বোনকে তুলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিদর্শক মালেকের নির্যাতনের স্বীকার যুবকের নাম মারুফ সিকদার। সে কাউনিয়ার বেগের বাড়ি এলাকার বাদশা সিকদারের পুত্র। ভূক্তভোগী মারুফ বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মালেকসহ ৩/৪ জনে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে এমন কথা বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তার অফিসে নেওয়ার পর আমার হাতে হাতকড়া পরিয়ে লাঠিদিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমার মাথা পা দিয়ে চেঁপে ধরে মালেক লাঠিদিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে একটা কাগজে মোড়ানো পোটলা দেখিয়ে বলতে বলে পোটলায় মোড়ানো ইয়াবা আমার। আমি তাকে বারবার বলতে চেষ্টা করি স্যার আপনার সাথেতো আমার কোনো শত্রুতা নেই, কেন আমাকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন?। কে শোনে কার কথা, সে অনবরত আমাকে টর্চার করতে থাকে।
মারুফ আরও বলেন, আমি পরিদর্শক মালেকের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরবর্তীতে তিনি যা শিখিয়ে দিয়েছেন তাই বলেছি। পরবর্তীতে মামলা দিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে অতিসম্প্রতি আমি জামিনে বের হয়েছি।
এ ব্যাপারে নির্যাতিত যুবকের বাবা বলেন, পরিদর্শক আবদুল মালেকের অনেক ক্ষমতা, আমরা গরিব মানুষ। এনিয়ে আমরা এখন মুখ খুললে হয়রানীর উদ্দেশ্যে আমাদের বিভিন্ন মিথ্যে মামলায় জড়ানো হতে পারে।
সূত্রমতে, পরিদর্শক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে এধরনের অসংখ্য ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকমাস আগে নগরীর বান্দরোডে এলাকায় এক যুবককে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সময় জনতার রোষানলে পরলে সেই যুবক হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়ে হাতকড়া ফেরত নেয় পরিদর্শক আবদুল মালেক তালুকদার।
বিশেষ অনুসন্ধানে ইন্সপেক্টর মালেক তালুকদারের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন বরিশাল নগরীতে থাকায় মালেক তালুকদার গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন বরিশালের চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিয়ে তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে মাদকসেবীদের ধরে অর্থ বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন পরিদর্শক মালেক তালুকদার।
অভিযোগের ব্যাপারে ইন্সপেক্টর আবদুল মালেক তালুকদার সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা করেন। নির্যাতনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, কাউকে আমরা আটক করলে তাকে থানায় সোর্পদ করে শুধু আমরা মামলা দিয়ে থাকি।