বাগেরহাটের চিতলমারীতে ঘেরে বিষ প্রয়োগ,কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৫ মার্চ, ২০২১

চিতলমারী প্রতিবেদক, বাগেরহাট,  অলোক মজুমদার::::বাগেরহাটের চিতলমারীতে বুধবার রাতে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে দূবৃত্তরা।এতে ক্ষতি হয় কয়েক লক্ষ টাকা।এমন তথ্য মিলছে সরজমিনে।মাছে ভাতে বাঙ্গালী।একদিন চলেনা পরিবারে মাছ ব্যতিত।পুষ্টি বা আমিষের অধিকাংশ আসে মৎস্য খাত হতে।এই খাতে মাঝে মাঝে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। দিনকে দিন বাড়ছে চোরের উৎপাত।অনেক কষ্টে ধারদেনা করে ঘেরে(লিচে)মাছ চাষ করে এলাকার লোকজন।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত হতে বাঁচতে পারলেও বাঁচা যায় না চোরদরর হাত থেকে।
চিতলমারী উপজেলার কুরমুনি মৌজার কুরমুনি গ্রামে বুধবার রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘের মালিক অনূকুল বসু বলেন আমি আড়াই (২.৫)একর জমিতে মাছ চাষ করি।আমরা গরীব মানুষ।ধারদেনা করে এখাতে বিনিয়োগ করি লাখটাকা।চোরেরা আমার পরিবারের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিলো।পাঁচটি ঘেরের মাছ এনে এক জায়গায় রেখেছিলাম।বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্য গলদা চিংড়ির পোনা ৪০০০পিচ,বিক্রয়যোগ্য চিংড়ি ২ হাজার পিচ, রুই ২০০০পিচ, গ্রাসকার্প ৭০০-৮০০টি,চায়না পুটি আনুমানিক কয়েক মন,কাতলা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিলো।আমার একার প্রায় দুইলাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।যার বছর শেষে বাজার মূল্য হতো চার লাখটাকার মতো।
অনূকুল বলেন,দ্যাখেন মাছগুলো মরে ভেসে উঠেছে।জেলেদের জালে যে মরা মাছ উঠছে তা বিক্রি করা যাবে।নষ্ট হয়ে গেছে।আমাকে এক প্রকার স্বর্বশান্ত করে দিয়েছে।কি ভাবে এই ক্ষতি পোষাবো তা মাথায় আছসে না।
তিনি বলেন আমি না শুধু আমার ঘেরের পাশের নীলরতন পাল ো রবীন বিশ্বাসের আরো দুইটা ঘোরে বিষ দিছে।তারা গরীব মানুষ।
আমাদের সাথে তেমন কারো সমস্যা নেই।আমার মনে হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ওয়াপদা রাস্তায় লোকজন ক্যানভাছে আসে।অন্য জায়গায় লোকজন এমনটা ঘটায় বলে আমার ধারনা।নিজেদের জমির সাথে অন্য লোকের জমি নগদ জমা(হাড়ি)নিয়ে চাষাবাদ করি।সারা বছর চেয়ে থাকি ঘেরের মাছ বিক্রী করে ধার দেনা শোধ করবো।তাতো আর পারলাম কই?
চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃনিজাম উদ্দীন ঘটনা শোনা মাত্র তার অনুসারীদের নিয়ে আমাদের ঘেরে চলে আসেন।থানা প্রশাসন খবর পেয়ে সরজমিনে তদন্ত করতে আসে এবং এর সত্যতা পায়।
ক্ষয়ক্ষতির কথা শুনে সমবেদনা জানান উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু অশোক কুমার বড়াল,ভাইসচেয়ারম্যান মাহাতাবুজ্জামাস,মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল হোসেন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক বাবু পীযুষ কান্তি রায়, আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ,গ্রামবাসী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
থানায় কোন ডাইরি করেছেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, থানায় অজ্ঞাত নামা দিয়ে ডাইরি করেছি।পুলিশ প্রশাসন বলছে তদন্ত করে,আমাদের নিজস্ব সোর্স দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে চোর ধরার চেষ্টা করবো।ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে এলাকাবাসী তার জন্য প্রশাসনের সকলের উপর দাবি রাখেন।