বাবা-মাকে নিয়ে গর্ব করেন পারভেজ


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২০ আগস্ট, ২০২০

বিনোদন: সন্তানের চোখে বাবা সুপার হিরো! তারপরও সন্তান বড় হয়ে গেলে এই অনুভ‚তি বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে সন্তান যদি সাফল্যের চ‚ড়ায় অবস্থান করে, তখন গরিব বাবার পরিচয় বা পেশার কথা বলতে অনেকে দ্বিধায় ভোগেন। অনেকে আবার অসহায় বাবার পরিচয় লুকিয়ে রাখেন। এর উল্টোটাও সমাজে ঘটে। এ সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারভেজ। তার বাবা টাইপিস্ট। একথা তিনি গৌরবের সঙ্গে বলেন। কিন্তু তার বাবা কখনও চাইতেন না সন্তান সমাজে তার পরিচয় দিক। যে কারণে তিনি কখনও তার সন্তানদের কর্মস্থলে নিয়ে যেতেন না। স¤প্রতি একটি অনুষ্ঠানে পারভেজ তার বাবা সম্পর্কে এসব কথা বলেন। পারভেজ বলেন, ‘আমি ক্লাস টেন পর্যন্ত জানতামও না আব্বা কী কাজ করনে? কোথায় কাজ করনে? পরে জানলাম সুপ্রিম কোর্টের অপজিটে যারা টাইপিস্ট হিসেবে কাজ করেন তাদের মধ্যে একজন আমার আব্বা।’ এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে পারভেজ বলেন, ‘একবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা কাজের জন্য যাই। ভাবলাম ফেরার পথে আব্বার সঙ্গে দেখা করবো। কিন্তু আমি আব্বাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম- এখানে আজাদ সাহেব কোথায় বসেন? যাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে চিনতেন। উৎফুল্ল কণ্ঠে বললেন, আপনি পারভেজ ভাই না? আপনার গান আমি সবসময় শুনি। এরপর আমি যখন তাকে বললাম, উনি আমার আব্বা, একটু দেখা করতে চাই। একথা শুনে তিনি খুব অবাক হয়ে আব্বার কাছে নিয়ে গেলেন। তারপর আব্বাকে বললেন, আঙ্কেল, আপনি কখনও বলেননি তো পারভেজ ভাই আপনার ছেলে! আব্বাও আমাকে দেখে খুব শকড হয়েছিলেন। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল! তিনি খুব গরমের মধ্যে বসে কাজ করছিলেন।’ আবেগে আপ্লুত হয়ে পারভেজ বলেন, ‘আব্বা এত কষ্ট করেন তা কখনও মনে হয়নি। আজ মানুষ আমাকে ভালোবাসে। কিছুটা পরিচিতি পেয়েছি। মানুষ আমাকে যতœ করে এসি রুমে নিয়ে বসায়। অথচ আমি কল্পনাও করিনি বাবা গরমে এভাবে কষ্ট করে কাজ করেন। সেদিন আব্বা আমাকে দেখে রাগ করেছিলেন। লজ্জিত মনে হচ্ছিল তাকে। তখন আমার গাড়ি আছে। আব্বাকে বললাম, আপনার কাজ শেষ হয়েছে? তাহলে চলেন। আব্বা ব্যাগ গুছিলে গাড়িতে উঠে বসলেন। গাড়িতে বসে আব্বা একটা কথাও বলেননি। অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলেন।’ পারভেজ জানান, পরদিন তার আব্বা আম্মার কাছে কিছুটা ক্ষোভ, রাগ এবং দুঃখে বলেছিলেন, ‘পারভেজ একটা টাইপিস্টের ছেলে- সবাই জানলো- এটা তো ঠিক না।’ পারভেজ বলেন, ‘আমি সত্যি এত বড় হতে চাইনি, যেদিন বাবার মনে হবে তার কারণে আমার নাম নষ্ট হবে। আমি বলবো, আমার বাবা-মা আমার দেখা সবচেয়ে সাকসেসফুল বাবা-মা। কারণ আমার পাঁচ ভাইবোন। এর মধ্যে আমার বড় বোন বুয়েট থেকে, এরপর তিন বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন। আমিও ঢাবি’র স্টুডেন্ট ছিলাম। ওই টাইপিস্ট বাবাই কিন্তু আমাদের আজকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন।’