ভারতীয় গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২২ মার্চ, ২০২১

ঋতুপর্ণা দে, খুলনা::: আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এমন তথ্যই সোমবার (২২ মার্চ) ভারতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে  জানা গেছে। এর আগে ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জুরিবোর্ড বৈঠকে বসেন।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ২০২০ সালের মরণোত্তর গান্ধী পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। জুরি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, লোকসভার বিরোধী দলের নেতা অধীর চৌধুরী, লোকসভার স্পিকার ওম বিরল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুলভ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান বিন্দেশ্বর পাঠক।

জানা গেছে,অহিংসা এবং মহাত্মা গান্ধীর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন এবং ভারতীয়দের কাছে তিনি একজন নায়ক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই দুই দেশের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব-ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা গত কয়েক দশকে উভয় দেশের অংশীদারত্ব, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছেন  বলে বৈঠকে মোদি বলেন। তিনি আরো বলেন, যখন বাংলাদেশজুড়ে মুজিব বর্ষ পালিত হচ্ছে, তখন প্রতিবেশী স্বাধীন দেশের জাতির পিতাকে এই সম্মান জানাতে পেরে ভারতও গর্বিত।

এছাড়া জানা যায় , প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরেই এই সম্মাননা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। অথবা বছরের অন্য কোনো সময়ে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য দিল্লিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করাও হতে পারে।

উল্লখ্য যে,গান্ধী শান্তি পুরস্কার ভারত সরকার প্রদত্ত মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীজির মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এই পুরস্কার চালু করে। অহিংসা  গান্ধীবাদী পদ্ধতিতে আর্থসামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কারের নগদ অর্থমূল্য এক কোটি টাকা, সঙ্গে একটি স্মারক ও একটি মানপত্র দেওয়া হবে। জাতীয়তা, জাতি, ধর্মমত ও লিঙ্গনির্বিশেষে এই পুরস্কার দেয়া হয়।

প্রতিবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা, ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং অপর দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি জুরিবোর্ড প্রতিবছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম নির্ধারণ করে।

এর আগে বিভিন্ন সংগঠন ও বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ তাদের মহৎ কর্মকান্ড এবং অবদানের জন্য ভূষিত হয়েছেন এই সম্মাননায়।