মাকে জবাই করে হত্যা করা সেই ছেলে এখন পাগল, চলেন হামাগুঁড়ি দিয়ে


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১০ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক :: জমি লিখে না দেয়ায় ঘুমন্ত মা মোছা. মঞ্জিলা বেগমকে (৮২) জবাই করে হত্যা করা সেই ছেলে আবু তালেব (৪৮) এখন পাগল। অবশ হয়েছে দুই পা। দুই বছর ছিলেন পাবনার মানসিক হাসপাতালে।

দুই বছর চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ময়মনসিংহ আদালতে হাজির করা হয় আবু তালেবকে। আদালতে হাজিরার পর পঙ্গু আবু তালেব সিঁড়ি দিয়ে হামাগুঁড়ি দিয়ে নামছিলেন। নামার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুছ ছাত্তারকে দেখেই বলতে থাকেন, ‘স্যার আমাকে কেউ দেখতে আসে না, আমার ছবি তুলেন। মাকে হত্যা করার কারণে আজ আমার এই অবস্থা, সবাইকে দেখান। কেউ যেন এমন পাপ কাজ আর না করে।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুছ ছাত্তার বলেন, ‘মাকে হত্যা করে এখন তিনি অনুতপ্ত। গতকাল ওই মামলার সাক্ষী ছিল। সাক্ষী দিতে গেলে আবু তালেব সিঁড়ি দিয়ে হামাগুঁড়ি দিয়ে নামার সময় এসব কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের ১১ নভেম্বর ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর কানুরামপুর গ্রামে জমি লিখে না দেয়ায় মাকে গলাকেটে হত্যা করে আবু তালেব। ওইদিন নিহতের অপর ছেলে আবু তালেবকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার দুইদিন পরই পুলিশ আবু তালেবকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।’

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, নিহত মঞ্জিলা বেগমের ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে। জমির ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধসহ মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। তৎকালীন আবু তালেবের বিরুদ্ধে একটি মামলায় মা মঞ্জিলা বেগমকে সাক্ষী রাখেন আরেক ছেলে আব্দুল কাইয়ুম। এনিয়ে বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন আবু তালেব। এমতাবস্থায় ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর রাতে মাকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে এক প্রতিবেশী অনেক ডাকাডাকি করলেও আবু তালেব ও তার মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তিনি ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, মশারি টানানো ও ভেতরে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় মঞ্জিলা বেগম শুয়ে আছেন। কাঁথা সরিয়ে দেখেন রক্তমাখা দেহ। তার চিৎকারে অন্যান্য প্রতিবেশীরা গিয়ে মঞ্জিলা বেগমের গলাকাটা লাশ দেখতে পান।

এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন আবু তালেব। ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মাকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেন আবু তালেব।

নিহত মঞ্জিলা বেগম নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কানুরামপুর এলাকার কতুবপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী।