মাদারীপুরের শিবচরে রাতভর ধর্ষণ শেষে কিশোরীকে ফেলে গেল সড়কে


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৯ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:: মাদারীপুরের শিবচরে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাকির হাওলাদার (২৫) নামে এক দোকান কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ধর্ষণ শেষে ওই কিশোরীকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় জাকির। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে আসলে তার পরিবার থানায় মামলা দায়েরের পর ধর্ষক জাকিরের সহযোগী ওই কিশোরীর ভাড়াটিয়া স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা এলাকার এক দরিদ্র দিনমজুর নিজের ঘর-বাড়ি না থাকায় স্ত্রী ও এক মেয়েসহ প্রায় দশ বছর আগে একই উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর বাজার সংলগ্ন এক পরিবারে আশ্রয় নেয়। মুসলিম পরিবারটি তাদের অসহায়ত্ব দেখে নিজেদের একটি ঘরে ঘরভাড়া ছাড়াই তাদের বসবাস করতে দেয়। ওই দরিদ্র দিনমজুর বাহাদুরপুর মাছ বাজারে মজুরি করে তাই দিয়ে সংসার পরিচালনা করছিল। কয়েক বছর আগে দেলোয়ার বেপারী (৩৫) ও তার স্ত্রী জান্নাত (২৭) ওই কিশোরীদের পাশের ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দেলোয়ার বাসায় তেলে ভাজা খাবার তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন। তার এ কাজে সহযোগিতার জন্য ৩/৪ জন কর্মচারী ছিল। এক বছর যাবত জাকির হাওলাদার দেলোয়ার বেপারীর ব্যবসায়ীক কাজে কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হয়। জাকির এখানে কাজ করতে এসে তার দৃষ্টি পড়ে ওই কিশোরীর ওপর। তিনি প্রায়ই ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এ ব্যাপারে তাকে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাত সহযোগিতা করতো।

ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, আমাকে প্রায়ই জাকির কুপ্রস্তাব দিত। দেলোয়ার আর জান্নাত জাকিরের কুপ্রস্তাবে রাজি হতে আমাকে অনেক চাপ দিত। আমি তাদের সাথে জাকিরের সাথে দেখা করতে রাস্তায় না গেলে আমার বাবা, মা ও আমাকে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখিয়ে আমাকে হাত ও মুখ বেধে অটোতে করে এক বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর জাকির আমাকে ধর্ষণ করে। আমি ওদের বিচার চাই।

কিশোরীর বাবা বলেন, আমি অসহায় মানুষ। আমার মেয়ের জীবন যারা নষ্ট করেছে আমি আইনের কাছে তাদের কঠিন বিচারের দাবি জানাই। আর মূলহোতা জাকিরকে যেন পুলিশ তারাতারি গ্রেপ্তার করে এটাই আমার চাওয়া।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিরাজ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে ধর্ষনকারীর সহযোগী দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জান্নাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলহোতা জাকিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।