মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে সাবমেরিন ক্যাবল সহ বেশকিছু গ্রাম


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৮ মার্চ, ২০২১

ইয়ামিন কাদের নিলয়,শরীয়তপুর প্রতিনিধি::ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শরীয়তপুরে গোসাইরহাট উপজেলার চরাঞ্চলে যে বিদ্যুৎ সংযোগ‌ দিয়েছে তার মূল কাজ হচ্ছে নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া বিদ্যুৎ সাবমেরিন ক্যাবল ও নদী তীরবর্তী বেশ কিছু গ্রাম আজ হুমকির মুখে।প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন রমরমা ব্যবসা চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ কিন্ত এর আগে কয়েক দফা স্পিডবোট যোগে নদী ভাঙ্গন রোধ,নদীর দুই তীরে অবৈধ দখল সহ অবৈধ ড্রেজার দ্বারা অবৈধভাবে চর কেটে বালু উত্তোলন বন্ধে গোসাইরহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যের টিম সহ কঠিন ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মেঘনা নদীর পাড়ের চরের ভেতরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে চর কেটে বালু উত্তোলনের দুই থেকে তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
তারপরও গোসাইরহাটের পূর্ব কোদালপুর ঠান্ডার বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি অসাধু চক্র ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়েই যাচ্ছে।
ড্রেজারে বালি উত্তোলন এর কারণে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরাঞ্চলের গ্রাম গুলো। এতে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না,সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোসারহাট উপজেলার পূর্ব কোদালপুর ঠান্ডার বাজার সংলগ্ন বিকাল ৪ টা থেকে সকাল পর্যন্ত অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মেঘনার তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে কমপক্ষে ৪/৫ টি ড্রেজার দিয়ে দেদারছে বালু বিক্রি করছে, প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তারপরও চলছে অবৈধ ড্রেজার। প্রতিকারের জায়গাটিও আজ মনে হচ্ছে অন্ধকারে ঢাকা।
মেঘনার পাড়ের বসবাসরত শতশত পরিবার, এলাকার বাজার সহ সরকারের শতশত কোটি টাকার সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প ভেস্তে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মেঘনায় নদীতে তলদেশ থেকে স্থানীয় একটি বালুদস্যু চক্রের নেতৃত্বে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব। গোসারহাট উপজেলার কোথায়ও অনুমোদিত কোনো বালুমহাল নেই এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনে নেই প্রশাসনের অনুমতিও।
এরপরও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারসহ বিভিন্ন দেশীয় পদ্ধতিতে । সেখান থেকে বালু নিয়ে শরীয়তপুর সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলে যাচ্ছে । বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।বালুদস্যুদের কাছ থেকে প্রশাসনের কতিপয় কর্তা ব্যক্তি নিচ্ছে অনৈতিক সুবিধা এমন অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।এ বিষয়ে মুঠোফোনে আলাপকালে এক বালু ব্যাবসায়ী বলেন, বালু উত্তোলন করছি, অনুমতি নিয়েই করছি। তাছাড়া নদী আমাদের, জমি আমাদের, সরকারও আমাদের।স্থানীয়রা জানান, তারা খুব প্রভাবশালী। এ চক্রের বিরুদ্ধে কথা বললে আমরা এলাকায় থাকতে পারবো না। তারা প্রশাসন ম্যানেজ করে কাজ করে যাচ্ছেন।এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে আগেও অভিযোগ এসেছিল। ১৫ দিন আগে আমরা তা ভেঙে দিয়ে আসছি। এখন আবার শুনলাম চলছে, তাই আমি ভূমি কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলছি।