“রামেক হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু: বাবা ও বন্ধুকে পেটালো আনসার সদস্যরা”


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৪ মার্চ, ২০২১

মহম্মদ সাজিরুল ইসলাম লিংকন,রাজশাহী প্রতিনিধি:::রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এবার দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করায় লামিয়া খাতুন নামের ওই শিশুর বাবা মো. লিটন ও তার বন্ধু সাগর হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় দুই আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

লিটনের বাড়ি নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায়। শনিবার বিকেলে শিশু লামিয়ার দাফন শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন লিটন। আনসার সদস্যদের মারধরে আহত হয়ে তার বন্ধু সাগর রামেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার বিকালে তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে।

লিটন জানান, গত শুক্রবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে তার মেয়ে লামিয়াকে বুকের ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে রামেক হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এক ঘণ্টা পর পর চিকিৎসককে ডাকতে বলেন কর্তব্যরত নার্সরা। রাত ১০টার দিকে লিটন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকতে গেলে তারা দুর্ব্যবহার করেন এবং কক্ষ থেকে বের করে দেন।

লিটন জানান, চিকিৎসক না আসার কারণে অবহেলায় মারা যায় শিশু লামিয়া। এর প্রতিবাদ জানাতে তিনি আবারও চিকিৎসকের কক্ষে গেলে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে বেদম মারপিট শুরু করেন। এ সময় তার বন্ধু সাগর তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। সাগর আহত অবস্থায় হাসপাতালেই ভর্তি হন। আর লিটন আহত অবস্থায় মৃত শিশুকে নিয়ে বাড়ি যান দাফনের জন্য। লিটনের দাবি, তিনি শুধু এমন মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আর এ কারণেই তাদের দুইজনকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান।

তবে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌসের দাবি, লিটন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। সে সময় ‘একটু ধাক্কাধাক্কির’ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিষয়টা মিমাংসা করে দিয়েছি। ঘটনার সময় যে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুললেই ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে থাকেন। সম্প্রতি এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে পেটানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন অবহেলায়। প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তার ছেলেকে পিটিয়ে পুলিশের হাতেও তুলে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুইপক্ষই থানায় দুটি মামলা করে। পরে অবশ্য জেলা প্রশাসক বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।