শরীয়তপুরের ডামুড্যা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ অনিয়ম দূর্নীতি


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৯ মার্চ, ২০২১

ইয়ামিন কাদের নিলয়, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের ডামুড্যা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিণত হয়েছে ঘুষের আখাড়ায়। উৎকোচ ছাড়া কোনো কাজই করেননা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন মবিনুল হক মবিন। যেকোনো কাজ করতে মবিনকে পাঁচশত একহাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। এ কাজে মবিনের অন্যতম সহযোগী মাস্টার রোলের কর্মচারী হাবিব। মানুষের সাথে খারাপ আচারন হুমকি ধামকি দেবার মতোও অভিযোগ রয়েছে মবিন ও হাবিবের বিরুদ্ধে।

মবিন ও হাবিবের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সকল অবৈধ কাজের বৈধতা দিচ্ছে মবিন হাবিব সিন্ডিকেট। আবার সিন্ডিকেটের কাজগুলো করে দিচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অন্য কর্মকর্তারা। এ সিন্ডিকেটে ঘুষেই মিলছে অহরহ জাল দলিল। ফলে ঘুষের কারবারেরই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এসব অপকর্মের হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর সাব-রেজিস্টার অফিসের পিয়ন মবিনের দিকে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান এর বিপরীতে। ফলে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন। সরকারের কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় ডামুড্যার সাব রেজিস্ট্রিার অফিসে বেপরোয়া ভাবে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন সিন্ডিকেটটি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মবিন হাবিব সিন্ডিকেট ও অফিসের কর্মকর্তারা। ভূমি কর্মকর্তাদের নাম, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজ তৈরি করার পর জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে। এসব অপকর্মে মাসে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দলিল করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারি এবং দালালরা নানা ধরনের জাল-জালিয়াতিতে জড়িত।
এছাড়াও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পথও করে দিয়ে থাকেন কেউ কেউ।

জানা গেছে, সাফ-কবলা দলিলের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ হারে রাজস্ব নেওয়ার কথা থাকলেও দাতা ও গ্রহীতাদের জিম্মি করে প্রতি লাখে ১১ শতাংশ হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেখানে একটা হেবা দলিল করতে বাংলাদেশ সরকার নির্ধার করে দিয়েছে ১১৪০ টাকা সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের থেকে নিচ্ছেন ১৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলিল করতে সরকারি ফি বাবদ ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও সাব রেজিস্ট্রার অফিস হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। ডামুড্যা উপজেলার আওতাভুক্ত এলাকার দলিল করতে নেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর উপজেলার বাইরের এলাকার জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।

এক্ষেত্রে দলিল প্রতি লাখে ৩০০ টাকা দিতে হয় সাব রেজিস্ট্রারকে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে ফি নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও এ দলিলে ঘুষ দিতে হয় এক থেকে ১০ হাজার টাকা। হেবা ঘোষণা দলিল ফি-বিহীন করার বিধান থাকলেও নেওয়া হয় ১২০০-১৫০০ টাকা। বণ্টননামা দলিলে নেওয়া হয় ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো দলিলের মূল পর্চা না থাকলে ফটোকপি পর্চায় নেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া দলিলের নকল তুলতে দলিল প্রতি নেওয়া হয় দুই হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের জনৈক কর্মচারী বলেন, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি দলিল হয়, অর্থাৎ মাসে দলিল হয় ১২০০ থেকে ১৪০০টি। এসব খাত থেকে প্রতিমাসে শুধু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আয় হয় ৪০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, সাব-রেজিস্ট্রী অফিস, ডামুড্যা,শরীয়তপুর
(http://www.damudya.shariatpur.gov.bd/site/) এই সাইটে গিয়েও মিলছেন না প্রয়োজনীয় তথ্য। সাইটিতে নেই আপডেট। ডিজজিটাল যুগে সেকেলে পড়ে আছে সাইটটি।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুর রহমানের বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।