শরীয়তপুরে শিশু শ্রমিক দিয়ে চলছে ইটভাটা ও ভেকু মেশিনের কাজ


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৮ মার্চ, ২০২১

ইয়ামিন কাদের নিলয়,শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :::শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ব্রিকসে শিশু শ্রমিক দিয়ে চলছে ইটভাটার কাজ। এছাড়াও নদীর মাটি কেটে তৈরি করছে ইট।বুধবার (৩ মার্চ) এমন অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অমানবিক ভাবে চলছে শিশুশ্রম। বড় মানুষের মতই কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও জয়ন্তী নদী থেকে ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।এরপর সেই মাটি দিয়ে তৈরি করছে ইট। ইটভাটা গুলো ঘুরে দেখা যায় শিশু শ্রমিক বড়দের সাথে কাজ করছে। শিশুরা কাঁচা ইট পোড়াতে নিয়ে যাচ্ছে খোলাতে।
এ সময় কথা হয় ইটভাটা শিশু শ্রমিক রাজনের সঙ্গে। শিশু শ্রমিক রাজন বলে, ‘বাবা-মার সাথে চার ভাই এক বোন সবাই ইটভাটায় কাজ করে। ১১০টা ইট টানলে ৯ ট্যাহা (টাকা) দেয়। মালিক ট্যাহা দিতে চায় না। কয় মাল বেচা হয় না।’
নয় বছর বয়সী এই শিশু বলে, ‘দুই জনে কাজ করি। প্রতিদিন ১শ দেড়শ টাকার কাজ করি। ১১০টা মাল (ইট) তৈরির মাঠ থেকে চুলা পর্যন্ত নিয়া দিলে ৯ ট্যাহা দেয়।’
রাজন জানায়, ইটভাটার সরদার তাদের এনেছে। এ্যনো ১০/১৫ জন কাজ করে। ৯ বছরের শ্রমিক রজন, হাত দিয়ে তাদের উচ্চতা দেখান। প্রথমে তার হাটুর সমান থেকে শুরু করে তার সমান পর্যন্ত শিশুরা এই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাদের। কাজ করলে টাকা দেয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজের কোনো বেতন নেই। ইটের পিচ গুনে টাকা দেয়।
কথা বলার সময় রাজনের বড় ভাই রবিন (১২) এসে উঁকিঝুঁকি মারছিল। সে সময় কথা হয় রবিনের সাথেও। সে জানায়, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। বাবার নাম আলামিন। পরিবারের মোট সদস্য ৭ জন। বাবা-মাসহ ৪ ভাই এক বোন সবাই ইটভাটায় কাজ করে। তাদের পরিবারকে কন্টাক্ট করে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে এনেছে।
রবিন বলেন, যে সকল শিশু ইটভাটায় শিশু শ্রমিক কাজ করে সবার বয়স ১৫ বছরের নিচে। ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করতে।
এ. এম. বি ব্রিকসের মালিক মৃত্যু আলী হোসেন মাদবর ছেলে সিধুলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকন মাদবর বলেন, আমার ইটভাটায় ১০/১৫ জন না। প্রায় ৩০/৩৫ জন শিশু রয়েছে। এরা কেউ ইটভাটায় কাজ করে না।