শ্বশুরের চুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, তিন সন্তানের জননীর মৃত্যু


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৯ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:::নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার ২ নং কেশারপাড় ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের পারিবারিক কলহের জেরে ছায়েরা খাতুন প্রকাশ রেখা (৩৫) নামের এক কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে ঘাতক শ্বশুর আবদুল মান্নান প্রকাশ মনা (৭০)। ওই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২৮ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার কেশারপাড় ইউপির ইটবাড়িয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী বাবুলের নতুন বাড়িতে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক শ্বশুড় আবদুল মন্নান পলাতক রয়েছে। এঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ রমজান আলী প্রকাশ সোহাগ বাদি হয়ে নিহতের শ্বশুর আবদুল মান্নান প্রকাশ মনাকে একমাত্র আসামী করে সেনবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ১৬ তারিখ ২৮/০৩/২০২১ইং। নিহত ছায়রা খাতুন প্রকাশ রেখা কুয়েত প্রবাসী মোঃ বাবুলের স্ত্রী ও একই উপজেলার ৫নং অজুনতলা ইউপির উত্তর মানিকপুর গ্রামের কালাজি ব্যাপারী বাড়ির মোঃ হানিফের মেয়ে। নিহত রেখা বিবি আমেনা (১৬) নামের এক মেয়ে ও সাইফুল ইসলাম প্রকাশ শাওন (১৪) এবং জাফর ইসলাম (১১) নামের দুই ছেলে রয়েছে। সোমবার ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে রেখার লাশ পিতার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জানাগেছে বিগত ১৮ বছর আগে উপজেলা ৫ নং অজুনতলা ইউনিয়ন উত্তর মানিকপুর গ্রামের কালাজি ব্যাপারী বাড়ির মোঃ হানিফের মেয়ে রেখার সঙ্গে ইটবাড়িয়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোঃ বাবুলে সঙ্গে রেখার বিবাহ হয়। বিগত ২মাস আগে বাবুল নতুন বাড়ি কওে পিতা-মাতা থেকে আলাদা হয়ে সেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তান বসবাস শুরু করে। প্রবাস থেকে পিতাকে পর্যন্ত পরিমান টাকা পয়সা দিতে না পারায় এই নিয়ে পিতার সঙ্গে সন্তান ও পুত্র বধূর বিরোধের সৃষ্ট হয়। এর জের ধরে রোববার বিক্ষুব্দ শ্বশুর পুত্র বধূকে নতুন বাড়িতে একা পেয়ে ধারালো চোরা দিয়ে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে চুরিকাঘাতে করতে থাকে। এসময় প্রবাসীর স্ত্রী গৃহবধূ রেখার আত্মচিৎকারে আশপাশে^র লোকজন এগিয়ে এলে ঘাতক আবদুল মান্নান প্রখাশ মনা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা রেখাকে তার রান্না করার ঘরের বাহিরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধার নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স রোববার দুপুরে ঘটনাস্থালে পৌছে ময়নাতদন্তের গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। এসময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো একটি চোরা উদ্ধার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ঘাতক আবদুল মান্নানকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনী পুলিশ।

নিহতের মেয়ে বিবি আমেনা ও ছেলে জাফর ইসলাম জানায় নতুন বাড়িতে আসার পর থেকে তার দাদা আবদুল মান্নান বিভিন অজুহাতে তার মা রেখার সঙ্গে জড়গা বিবাদ শুরু করে এবং তাকে হত্যার হুমকিও দেয়। রোববার তারা ভাই বোন মাদরাসায় চলে গেলে এই সুযোগে তাদের দাদা আবদুল মান্নান তার মাকে ধারালো চুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে করে হত্যা করে।
সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক আবদুল মান্নানকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে ।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম