সাংবাদিকতা পেশায় কোনো নিশ্চয়তা নেই


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩ এপ্রিল, ২০২১

রশিদ আল রুহানী ::: সাংবাদিকতা পেশায় আমি খুব বেশিদিন না, মাত্র ৭ বছর। এ পেশায় প্রবেশের পর কিছুদিন যেতেই খেয়াল করলাম- এই পেশায় আসার আগে পেশা সম্পর্কে যা ভেবেছি বা জেনেছি তার ৭০% ই ভুল ছিল। আগে ভাবতাম- ‘এরচেয়ে সম্মানজনক পেশা আর কিই বা হতে পারে? সাংবাদিকের লেখার কারনে দিয়ে সাধারন মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। দেশের উন্নয়নে জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করা যায়। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সামনের কাতারে বসতে দেওয়া হয়। রাষ্ট্র, সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সব উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে অবলীলায় দেখা করে কথা বলা যায়। অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে যেমন দাঁড়ানো যায়, তেমনি উন্নয়নের সঙ্গী হওয়া যায়। এতকিছু যদি সম্ভব তাহলে বেতনও তো মোটা হওয়ার কথা।

এসব ভেবে এই পেশার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হলো। পেশায় প্রবেশ করলাম। ভালো পার্ফমেন্সের জন্য ভালো কিছু পত্রিকা অফিস এবং মানুষের নজরে আসতে শুরু করলাম। বাহবা পেতে শুরু করলাম। কিন্তু বেতনের বেলায় যা পেতাম তা দিয়ে ঢাকায় নিজের থাকা-খাওয়া কষ্ট হয়ে যেতো। এই সময়ের মধ্যে তিনটা অফিস পরিবর্তন করেছি। এটা ঠিক কিছুটা সিনিয়র হওয়ার সাথে সাথে বেতনও বেড়েছে। কিন্তু ভাবি এটা দিয়ে হয়ত এখন অভাব মিটছে, কিন্তু আগামীতে কি হবে? যখন বুঝলাম- এই পেশাটা আসলে অন্য পেশার মত সেভাবে পেশা হয়ে ওঠেনি। অনিশ্চিত এক পেশা। সাংবাদিক অনেকেরই হয়ত আমার মতই অভিজ্ঞতা।

এবার মুল কথায় আসি। একসময় খেয়াল করেছি- অনেক সাংবাদিকই এই পেশার পাশাপাশি কোনো না কোনোকিছু করার চেষ্ঠা করেন। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিং করেন, কেউ দেশের পাশাপাশি বিদেশের পত্রিকায় কাজ করেন, কেউ গান-কবিতা-উপন্যাস-গল্প লেখেন। তবে বেশিরভাগেরই দেখেছি- ব্যবসা করেন। এক এক জন এক এক রকমের ব্যবসায় জড়িত। কিন্তু অন্য সব কাজকে সেভাবে প্রকাশ করলেও ব্যবসা করেন এটা সেভাবে প্রকাশ করতে দেখিনি। কেন প্রকাশ করেনি সেটার পেছনের যুক্তি হিসেবে আমি তাদের অনেকের কাছেই শুনেছি- ‘চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে’।

ইদানিং আমি দেখতে পাচ্ছি। ফেসবুকে অনেক সাংবাদিকই ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন। কেউ কেউ আগে থেকেই করছেন, সেটা হয়ত এখন প্রকাশ করছেন। এটাকে আমি খুব ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। যদিও সাংবাদিকতা পেশায় থেকে অন্য কাজে বা ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হতে চাকরিবিধিতে কোথাও বাঁধা আছে কি না- তা আমার জানা নেই। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়টা আমি জানি- সরকারি চাকরিজীবী কেউ ব্যবসা করতে চাইলে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিতে হয়। যাইহোক- এখন কি এমন ঘটলো- সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা শুরু করছে?

এমন অনেকের সাথে কথা বলে যেটা জেনেছি তা অনেকটা এরকম- ‘যখন ইচ্ছা হবে তখন বলবে চলে যাও। আবার করোনামহামারীর কারণে অনেকেরই বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের সবচেয়ে লাভজনক লিডিং পত্রিকা ‘প্রথম আলো’ ৫০ জনের বেশি পুরাতন, বিশ্বস্ত এবং দক্ষকর্মী ছাঁটাই করেছে। শুধু প্রথম আলো নয়, অনেক পত্রিকাতেই একই অবস্থা। মানবজমিন প্রিন্ট এডিশন বন্ধ। বেশ কিছু পত্রিকা তো আগে থেকেই বেতন অনিয়মিত। এসব দেখে বলাই যায়- সাংবাদিকতা পেশায় কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে সাংবাদিকের আজ বেতন আছে কাল তার নাও থাকতে পারে। ফলে পেশার পাশাপাশি কিছু করতে চাইলে কর্তৃপক্ষেরও এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। কারণ তারা তো সাংবাদিকদের চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।’

লেখক: সাংবাদিক।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই