সাতক্ষীরায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করতে যেয়ে বৃদ্ধ দাদা আশ্রয়হীন


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৪ এপ্রিল, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:: গতকাল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্কুলপড়ুয়া পুতনির বিয়ের বন্ধ করার চেষ্টা করার কারনে মারপিট করা হয়েছে দাদা কে। পর্যায়ক্রমে সন্তানেরা বসত বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেয়ার কথা জানা গেছে । শেষ পর্যন্ত বাল্য বিবাহের বিষয়টি আটকাতে পারেননি বৃদ্ধ দাদ। গত ২ এপ্রিল রাতে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ব্রজপাটুলি গ্রামে। স্কুল ছাত্রীর দাদা তার সন্তানদের কর্মকান্ডের বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে দিয়েছেন। ব্রজপাটুলি গ্রামের মৃত-বাহার আলীর ছেলে ভুক্তভোগী এশার আলী লিখিত অভিযোগে বলেন, তার পুতনি বড় ছেলের মেয়ে, খানজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী। তার পিতা মাতা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার জন্য গিত দিন থেকে পায়তারা করছিল। গত ২ এপ্রিল রাতে পুতনিকে জোরপূর্বক চালতেবাড়িয়া গ্রামের অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেয়ার সময় দাদা বিয়েতে বাঁধা প্রদান করে। এ সময় তার বড় ছেলে আনারুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে মনিরুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন ভাবে মারপিট করে এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্য যায়গাতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে স্কুল ছাত্রীর বাবা-মা এবং স্বজনরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেন। ঘটনার পর থেকে বৃদ্ধ বাড়ি ছাড়া হন। তিনি নিজের বাড়িতে গেলেও ছেলেরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগে উঠেছে। দেশের এই প্রথম বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা হিসেবে স্বীকৃত কালিগঞ্জ উপজেলায় এধরণের ঘটনা ঘটনায় সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাল্যবিয়ে প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।