হাসপাতালে নববধূর লাশ রেখে পালিয়ে গেলেন স্বামী


২৪ ঘন্টা বার্তা   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৭ মার্চ, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক :: বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুলালী খাতুন (১৮) নামের এক নববধূর মরদেহ রেখে তার স্বামী মজনু মিয়া পালিয়ে গেছে। রোববার (৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুলালী খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

এরপর থানা থেকে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত দুলালী খাতুন ধুনট পৌর এলাকার চরপাড়া গ্রামের চান্দু ফকিরের মেয়ে।

থানা পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুলালী খাতুনের সঙ্গে এক বছর আগে একই এলাকার বেলকুচি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মজনু মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে মজনু মিয়াকে বিয়ের চাপ দিলে পারিবারিক সম্মতি না থাকায় দুলালীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন মজনু।

এঈ অবস্থায় প্রায় চারমাস আগে বিয়ের দাবীতে মজনুর বাড়িতে অবস্থান নেন দুলালী। ফলে মজনু মিয়া বাধ্য হন বিয়ে করতে।

কিন্ত বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঘরে দুলালীর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান মজনু মিয়া।

পরে তাৎক্ষণিকভাবে মজনু ও তার পরিবারের লোকজন দুলালীকে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলালীকে মৃত ঘোষণার পর তারা পালিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে নিহতের পরিবারের লোকজন ও থানা পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

নিহতের ভাই ফজলুল হক বলেন, সংবাদ পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে বোনের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো জানতে পারিনি।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আশরাফুল কবীর বলেন, দুলালীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে মৃতদেহের গলায় ফাঁস লাগার আলামত পাওয়া গেছে।

ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, নববধূর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।